দিব্যেন্দু ভৌমিক, কোচবিহার: তিন বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল প্রকাশ হতে না হতেই নতুন করে পালে হাওয়া লেগেছে তৃণমূলের। বিজেপি–‌র দখলে থাকা পঞ্চায়েতগুলি নিজেদের তাগিদেই তৃণমূলে ফিরতে শুরু করল। সোমবার মাথাভাঙা–‌‌২ ব্লকের বড় শৌলমারি গ্রাম পঞ্চায়েত ও ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে নতুন করে তৃণমূলের বোর্ড গঠন হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ মন্ত্রী ও তৃণমূলের জেলা সভাপতি বিনয়কৃষ্ণ বর্মন সেই বোর্ড গঠনের সাক্ষী ছিলেন।
লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহারে বিজেপি জেতার পর থেকেই এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের বেশ কয়েকজন পঞ্চায়েত সদস্য বিজেপি শিবিরে নাম লেখান। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি ভয় দেখিয়ে, সন্ত্রাস করে সেই পঞ্চায়েতগুলি কবজা করেছিল। কিন্তু বিধানসভা উপনির্বাচনের পর ছবিটা পাল্টাতে শুরু করেছে। এবার বিজেপি–‌র দখলে যাওয়া পঞ্চায়েতগুলি আবার তৃণমূলে ফিরতে শুরু করেছে। বড় শৌলমারির ১৯ সদস্যবিশিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০ জনকে নিয়ে বোর্ড গঠন করেছিল তৃণমূল। কিন্তু প্রধান মহাদেব বিশ্বাস গেরুয়া শিবিরে ভিড়লে গ্রাম পঞ্চায়েত হাতছাড়া হয় শাসক দলের। সোমবার সেই প্রধান নিজেই দলে ফিরে এলেন। ফের তৃণমূলের দখলে এল বড় শৌলমারি। একইভাবে ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৯ জনই চাপে পড়ে তৃণমূল ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এদিন আবার সবাই তৃণমূলে ফিরেছেন।
জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন জানান, ‘‌দুটি গ্রাম পঞ্চায়েতই আজ মমতা ব্যানার্জির উন্নয়নের সাথি হল। বিজেপি–‌র সন্ত্রাসের জন্য যাঁরা দল ছেড়েছিলেন, তাঁরা আজ সাহস ও ভরসা পেয়ে দলে ফিরেছেন। আমি ওঁদের সবাইকেই গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে বসিয়ে দিয়ে এসেছি। দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত আবারও উন্নয়নে শামিল হবে আজ থেকেই।’‌                        

ছবি: প্রসেনজিৎ শীল  

জনপ্রিয়

Back To Top