বসুমতী ১০৯: সবাই চান, ফিরে আসুক দৈনিক

আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফিরে আসুক সেই দিন।

স্বাধীনতার পূর্বে প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদপত্র আবার পৌঁছে যাক ঘরে ঘরে। হাতে হাতে। ঐতিহ্যমন্ডিত 'বসুমতী' সংবাদপত্রের ১০৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই আহ্বানই শোনা গেল সকলের মুখে। 'সকলের' এই তালিকায় একদিকে যেমন ছিলেন মন্ত্রী, বিধায়ক এবং সাহিত্যিক, তেমনই ছিলেন এই পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত প্রাক্তন ও বর্তমান কর্মী ও 'বসুমতী বাঁচাও কমিটি'র উপদেষ্টারা। শনিবার বসুমতী সাহিত্য মন্দির-এ হল এই অনুষ্ঠান। 

যাত্রা শুরু ১৮৮১তে। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের শিষ্য এবং স্বামী বিবেকানন্দের গুরুভাই উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ছিলেন এই পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা। সাপ্তাহিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ১৯০৩ সালে এবং দৈনিক হিসেবে পথচলা শুরু ১৯১৪ সালে। জন্মলগ্ন থেকেই পত্রিকাটির পরতে পরতে জড়িয়ে আছে ইতিহাস। আমন্ত্রিত রাজ্যের কৃষি ও পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় যা উল্লেখ করে বলেন, 'ঐতিহ্যশালী এই পত্রিকার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত আছেন তাঁরা নিশ্চয়ই গর্ব অনুভব করেন। বহু নামী ব্যক্তি এই কাগজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কীভাবে আবার এই পত্রিকাকে সাপ্তাহিক এবং দৈনিক হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সেই লক্ষ্যে চলা উচিত। এই চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে।' 

বিধায়ক তাপস রায় বলেন, 'বসুমতী বাঁচানোর জন্য সব আন্দোলনেই ছিলাম। আজ এই অবস্থা দেখে আমার ভাল লাগছে না। বহু মহাপুরুষের আশীর্বাদধন্য এই প্রতিষ্ঠান। এককথায় এটা একটা 'হেরিটেজ'। কিন্তু কাগজটা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। আশা করব দ্রুত যাতে কাগজের সংস্করণ বেরোয়। এটাই প্রার্থনা।' 

স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে সামাজিক আন্দোলন, দৈনিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে প্রমাণ করেছে বসুমতী। পাতায় পাতায় রয়ে গেছে সেই ইতিহাস। সেই ইতিহাসের কথা স্মরণ করে সাহিত্যিক বীথি চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'বসুমতী বাংলা বা ভারতের ইতিহাস। আবার আগের মতো ওই কাগজ যেন আমাদের হাতে পৌঁছয়।' 

এরপর ছিল মনোজ্ঞ সঙ্গীতানুষ্ঠান। সমবেত সঙ্গীতের পাশাপাশি একক সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন প্রখ্যাত গায়ক তীর্থ ভট্টাচার্য। বসুমতী বাঁচাও কমিটির উপদেষ্টা আশিস গুহ রায় ছাড়াও ছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলর মোনালিসা ব্যানার্জি এবং সৌম্য বিশ্বাস ও অঞ্জন চন্দ। 

আশায় বুক বাঁধছেন কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা‌। আবার ঘুরে দাঁড়াবে এই প্রাচীন প্রতিষ্ঠানটি। মুদ্রণ যন্ত্র আবার প্রতিদিন চলতে শুরু করবে ঘরঘর করে। প্রতিটি সকালে পৌঁছে যাবে গরম খবর নিয়ে সকলের হাতে। আর সেজন্যই সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বিমান রাহা রায় বলেন, 'বসুমতী আজও মরেনি। এখনও মরেনি। আগামী দিনেও মরবে না। এই শপথ নিতে হবে আমাদের।' 

আকর্ষণীয় খবর