আজকালের প্রতিবেদন- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরে ফেল করা কয়েক হাজার পড়ুয়ার জন্য কী করা হবে, তা ঠিক করতে আজ বৈঠকে বসছে সিন্ডিকেট। পরীক্ষা সংক্রান্ত নতুন বিধিটি  প্রত্যাহার করে তার বদলে ২০০৯ সালের পুরনো বিধিটি বলবৎ করা হবে, নাকি ফেল করা পড়ুয়াদের জন্য সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে— সেটাই চূড়ান্ত করবে সিন্ডিকেট।
সোমবার বিধানসভায় এই প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, ‘‌আমরা অনুরোধ করেছি পুরনো নিয়ম চালু করতে। তবে এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিষয়। সিন্ডিকেট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’‌
এদিন বিধানসভার জিরো আওয়ারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানতে চান কংগ্রেসের অসিত মিত্র। দ্বিতীয়ার্ধে এ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পড়ুয়ারা আন্দোলন করছে। ‌মুখ্যমন্ত্রীও এত ফেল করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তা সত্ত্বেও সরকার এই বার্তা দিতে চায় না যে, পড়াশোনা না করে কেউ পাশ করুক। তবে মানবিক দিক থেকে বিষয়টি দেখতে হবে।’‌ যেভাবে নতুন নিয়মটি চালু হয়েছে, তা ঠিক পদ্ধতি মেনে হয়নি। পড়ুয়ারা মানসিক প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় পায়নি বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। বলেন, ‘নতুন পদ্ধতি চালু করা হবে। তবে একটু সময় নিয়ে। অনেক অধ্যক্ষও আমাকে জানিয়েছেন, তাঁরাও বিষয়টি জানতেন না।’‌ বাণিজ্যে সিবিসিএস চালু নিয়েও আরও প্রচার করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। ফেল করা নিয়ে বলেন, ‘‌এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিষয়। সরকারের এই বিষয়ে ঢোকার এক্তিয়ার নেই। কেন এমন হল, সেটাই জানতে চেয়েছিলাম। তবে নিয়মবদল একটা কারণ। ছাত্রদের বলব বিক্ষোভ না দেখিয়ে বইয়ের পাতা উল্টে দেখতে।’‌ ‌পড়ুয়াদের আন্দোলনের জেরেই এই সিদ্ধান্ত, এমনটা নয়। সব দিক বিবেচনা করেই এবারের মতো সুযোগ দিতে চাইছেন। সেই জন্যই বিশ্ববিদ্যালয়কে বিষয়টি বিবেচনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। জানান শিক্ষামন্ত্রী। এই সুযোগে কিছু রাজনৈতিক দলের পথে নেমে পড়ারও সমালোচনা করেন তিনি।
নতুন বিধিটি প্রত্যাহার করে পুরনো বিধি কার্যকর করলে বিএ এবং বিএসসি— দুটি ক্ষেত্রেই পাশের হার অনেকটা বাড়বে। তবে নতুন বিধি বাতিল করলে, আইনি জটিলতার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আইনজ্ঞদের মতামত নেওয়া হতে পারে। প্রসঙ্গত, বিএ–তে ৫৭ শতাংশ পড়ুয়া ফেল করেছেন। ৮৬ হাজার পড়ুয়ার মধ্যে ১৭ হাজার নিজেদের বিষয়ে ২০ বা তারও কম নম্বর পেয়েছেন।

জনপ্রিয়

Back To Top