বিজয়প্রকাশ দাস,পূর্ব বর্ধমান: রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবার থেকে সপ্তাহে নয়, মাসে একবার ৪ সপ্তাহের রেশন একসঙ্গে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমানে এমনটাই জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এদিন বর্ধমানে খাদ্য দপ্তরের এক সভায় রেশন ব্যবস্থা ও ধান প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠক শেষে খাদ্যমন্ত্রী জানান, বুড়ো আঙুলের ছাপ দিন, রেশন নিন। প্রায় ৭ কোটি ২০ লক্ষের মতো মানুষ এতে নথিভুক্ত হয়েছেন। ইলেকট্রনিক্স প্রসেসিং সিস্টেমের মাধ্যমে আধার কার্ডের সঙ্গে রেশন কার্ডের লিঙ্ক করানো হচ্ছে। পরিবারের লোকেদের একদিন নিয়ে যাবেন। আধার কার্ডে পাঁচটা আঙুলের ছাপ আছে, এই মেশিনে দুটো আঙুলের ছাপ দেবেন। পরিবারের সবাই সেই ছাপ দিয়ে চলে যাবেন। মাসে পরিবারের যে কোনও একদিন একজন এসে একটা ছাপ দিয়ে ৪ সপ্তাহের মাল একসঙ্গে একদিন নিয়ে যেতে হবে। সপ্তাহে সপ্তাহে আর রেশন দেওয়া হবে না। মাসে একদিন আসতে হবে। নিজের মাল নিজেকে আঙুলের ছাপ দিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এতে রেশনের স্বচ্ছতা অনেক বেশি থাকবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এ ব্যাপারে সরকারের অর্ডার বেরিয়ে গেছে। আস্তে আস্তে এটা সর্বত্র চালু হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ‘বামফ্রন্টের আমলে প্রচুর লিকেজ ছিল। আমি ১ কোটি ৫৬ লক্ষ জাল রেশন কার্ড ধরেছিলাম। আমরা এই লিকেজ বন্ধ করতে চাই। প্রপার জায়গায় খাবার পৌঁছাক। গরিব লোকের কাছে খাবারটা পৌঁছে দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কারও জন্য খাবার আটকানোর কোনও পথ নেই। যে খাবার পেতে চায় আবেদন করুক। দু’‌মাস ধরে বিজ্ঞাপন করে ক্যাম্প করে লক্ষ লক্ষ কার্ড করা হয়েছে। এখনও চলছে। সোম এবং মঙ্গলবার ছাড়া সারা মাসের যে কোনও একদিন একবার ৪ সপ্তাহের মাল একসঙ্গে পাবেন। রবিবারে দু’‌বার খুলতে হবে দোকান। মাত্র ১০ টাকায় একবারে সমস্ত রেশনের মাল তুলুন। এতে সময় ব্যয় কম হবে। তিনি রাইস মিল প্রসঙ্গে বলেন, ‘‌যে সব রাইস মিলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সিআইডি তদন্ত করা হয়েছে, তাদের আমরা সুযোগ দিচ্ছি। তাদের চালটা জমা করলে নিষ্কৃতি দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাব।’‌ এরকম ৮টি রাইস মিলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি জানান, ধান কেনার গতি বেড়েছে। বর্ধমানের প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার কালেকশন হয়ে গেছে।

জনপ্রিয়

Back To Top