উদয় বসু: পরকীয়া প্রেমের বলি হলেন ওলা–চালক। টালা থানার অন্তর্গত ওলাইচণ্ডী রোডের নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওলা–চালক সুজিত সাউ (২২)। বুধবার রাতে তার গাড়িতে চড়ে আসে স্থানীয় গৃহবধূ সীমা শর্মা ও তার স্বামী পিন্টা ওরফে প্রিন্টার কুর্মি। খড়দহ রুইয়া কল্যাণী হাইওয়ের ওপর এসে তারা সুজিতের গলার নলি কেটে খুন করে গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যায়। রাতে রাস্তার ধারে গাড়িটি নজরে আসে পুলিশ পেট্রোলের। কাছে গিয়ে পুলিশ দেখে গাড়ির চালক মৃত অবস্থায় গাড়ির মধ্যে পড়ে রয়েছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে। গাড়ির কাগজপত্র থেকে সুজিতের ঠিকানা পায় পুলিশ। ওই ঠিকানায় তদন্ত করতেই খুনের রহস্য বের করে ফেলে। সীমার বাড়ি যেতেই সীমা সুজিতকে খুন করেছে বলে স্বীকার করে।
পুলিশ সীমা ও তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে। জানা গেছে, সুজিতরা চার ভাই। মা, বাবা আছেন। বাবা বিহারে থাকেন। ২ বছর হল তিনি ওলা কিনেছেন। প্রতিবেশী পিন্টার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব ছিল। অল্প দিন হল পিন্টা বিয়ে করে। সুজিত পিন্টার নববিবাহিত স্ত্রী সীমাকে ভালবেসে ফেলেন। সীমার অভিযোগ, সুজিত মাঝেমধ্যেই উত্ত্যক্ত করতেন সীমাকে। সীমার কাছে বিষয়টি অসহ্য হয়ে উঠেছিল। পিন্টাও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল সুজিতের ওপর। এর মধ্যে সুজিত গাড়ি নিয়ে দিঘা যান। বুধবার এলাকায় এলেও বাড়ি ঢোকেননি। সীমা তাঁকে প্ল্যান করে ডেকে পাঠায় বেড়াতে যাবে বলে। সীমার উদ্দেশ্য টের পাননি। সীমা ও তার স্বামী পাইকপাড়া থেকে সুজিতের গাড়িতে ওঠে। তারপর সীমার কথামতো কল্যাণী হাইওয়ে ধরেন সুজিত। তারপর খড়দহ রুইয়ার কাছে আসতেই গাড়ি থামাতে বলে সীমা। তারপর দু’‌জনে ঝাঁপিয়ে পড়ে পেছন থেকে সুজিতের ওপর। সুজিতের গলা লক্ষ্য করে ছুরি চালায়। গলার নলি কেটে যায়।

জনপ্রিয়

Back To Top