গৌতম মণ্ডল, রায়দিঘি: নোটবন্দির তৃতীয় বছর। তিন বছর আগে নোটবন্দির সময় পেনশনের টাকা তোলার জন্য ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ভীষ্মদেব নস্করের (৮০)। রায়দিঘির কঙ্কণদিঘির বাসিন্দা ছিলেন তিনি৷ রায়দিঘি বাজারের ইউবিআই ব্যাঙ্কের শাখায় তিনি টাকা তুলতে গিয়েছিলেন৷ কঙ্কণদিঘি গোমেরমীর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন তিনি৷ এই স্কুল থেকেই অবসর নেন তিনি৷ তাঁর পেনশন অ্যাকাউন্ট ছিল রায়দিঘি বাজারে ইউবিআই ব্যাঙ্কের শাখায়৷ সেদিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ বাড়ি থেকে মোটরভ্যানে চেপে দীর্ঘ চার কিমি পথ অতিক্রম করে ব্যাঙ্কে আসেন পেনশনভোগী শিক্ষক৷ তারপর লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তিন মেয়ের বিয়ে ও স্ত্রীর মৃত্যুর পর ভীষ্মদেববাবু ছেলেদের কাছেই থাকতেন৷ 
শেষ জীবনে গ্রামের মানুষদের সঙ্গে গল্প করে তাঁর সময় কাটত। কিন্তু সব শেষ হয়ে যায় মৃত্যুর পর। এখন তাঁর ২ ছেলে কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকেন। ছোট ছেলে পঙ্কজের কাছেই তিনি মূলত থাকতেন। এখনও কঙ্কণদিঘির বাড়িতে তিনি থাকেন। বাবার ছবি মাটির বাড়ির দেওয়ালে টাঙিয়ে রেখেছেন পঙ্কজ। চাষাবাদ করে তাঁর সংসার চলে। নোটবন্দি তৃতীয় বর্ষে পড়লেও এই পরিবারের কোনও হেলদোল নেই। কারণ নোটবন্দির পর অনেক আশ্বাস পেয়েছিলেন পঙ্কজ। কিন্তু কেউ কথা রাখেনি বলে তাঁর অভিযোগ। তবে মোদির নোটবন্দির কার্যকারিতা নিয়ে সরব হয়েছেন পঙ্কজ। তিনি বলেন, ‘নোটবন্দি করে মানুষের কোনও লাভ হয়নি। উল্টে মানুষের হয়রানি হতে হয়েছিল। আমার বাবার মৃত্যু হয়েছিল ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়িয়ে। আমি কোনওদিন মোদিকে মেনে নিতে পারব না।’‌‌

ভীষ্মদেব নস্কর। ছবিতে মালা দিচ্ছেন ছেলে পঙ্কজ। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top