আজকালের প্রতিবেদন- একজন বাঙালি নোবেল পেয়েছেন, তাতে খুশি হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রাজ্যের প্রাক্তন অর্থনীতিবিদ ড.‌ অসীম দাশগুপ্ত আরও বেশি খুশি এই কারণে যে নোবেলের বিষয়টি হল উন্নয়নে বৈষম্য দূরীকরণ। যে বিষয় নিয়ে তিনি আজীবন চর্চা করে চলেছেন সেই বিষয়েই যে তাঁর একজন পরিচিত ও প্রিয় মানুষ অধ্যাপক অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় নোবেল পেয়েছেন। 
বাড়িতেই ছিলেন অসীমবাবু। টেলিফোনে ধরতেই প্রথম প্রতিক্রিয়া, আমি আনন্দিত, খুবই আনন্দিত। কারণ যে বিষয়ে উনি নোবেল পেয়েছেন তার সঙ্গে যে আমার চিন্তার সাযুজ্য রয়েছে। অভিজিৎবাবু দীর্ঘদিন আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউটস অফ টেকনোলজিতে গবেষণা করছেন। কলকাতায় প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়েছেন, জেএনইউ–‌তে পড়েছেন। তিনি যে এমআইটি–‌তে শুধুমাত্র গবেষণা করছেন তাই–‌ই নয়, নিজে একটি সংস্থাও গড়েছেন। যার কাজ হল কীভাবে উন্নয়নে বৈষম্য দূর করে দারিদ্র‌্য কমিয়ে আনা যায়। অসীমবাবু এদিন স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই বিষয়ে আমি একাধিকবার এমআইটি–‌তে বলার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছি ও গিয়েছি। সেখানে ওঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয়েছে। অভিজিতের সঙ্গে ও তাঁর কাজের সঙ্গে আমি পরিচিত। আমার গবেষণার বিষয়ও সমভাবনার।  সে জন্যই তো বলছি, চিন্তার সাযুজ্যের কারণে এই নোবেল প্রাপ্তি আমায় আরও বেশি আনন্দ দিয়েছে। অসীমবাবু বলেন, আমরা অনেকদিন ধরেই বলছি, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে থাকেন, তুলনায় গরিব। দীর্ঘ পরিচয় থেকে জানি অভিজিৎ এই জায়গাটাই ধরেছেন। আমার বিশ্বাসের সাযুজ্য এখানেই। আমি মনে করি, এই সাধারণ মানুষের আয় না বাড়াতে পারলে উন্নয়ন দেশের কাজে লাগবে না। উন্নয়নটা হবেও না ঠিক করে। কারণ এঁদের আয় বাড়লে তবেই বড় বাজার তৈরি হবে, তবেই পণ্যের চাহিদা বাড়বে। আর চাহিদা না বাড়লে উৎপাদন জারি থাকবে কী করে?‌ তাই এই গ্রামের মানুষের আয় বাড়াতে হবে। সঙ্গে জনশিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যেও নজর দিতে হবে। ১৯৯১ সাল থেকে যে ব্যবস্থায় আমাদের দেশ চলছে তা সফল হতে পারে না, হচ্ছেও না। কারণ তারা উল্টোপথে চলছেন। বাজার থেকে বা বিদেশ থেকে ঋণ নিয়ে উন্নয়ন করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাজার তৈরি হচ্ছে না, চাহিদা তৈরি হচ্ছে না, আর উন্নয়নও থমকে যাচ্ছে।‌
‌সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বললেন, ‘আজ বাঙালির জয়জয়কার। অমর্ত্য সেনের পর আরও একজন বাঙালি নোবেল পেলেন। খুব খুশির বিষয়। এই কলকাতাতেই তাঁর পড়াশুনো। আরও খুশি দারিদ্র‌্য দূরীকরণ নিয়ে দীর্ঘ গবেষণার কারণেই তিনি এই নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন, এতে আমাদের আনন্দের মাত্রা আরও বেশি। কারণ আমরা যে রাজনীতি করি, তার মূল লক্ষ্যই হল সমাজের অর্থনৈতিক অসাম্য ও দারিদ্র‌্য দূর করা। তাঁকে তাঁর মাকে এবং তাঁর সহধর্মিণী সকলকে শুভেচ্ছা জানাই।’ সূর্য বলেন, এ দেশে যখন নোটবন্দি হয়, তা যে সফল হবে না তা শুরুতেই বলেছিলেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এখন ভারতের নাগরিক নন। হলে কী হত জানি না, এটাই বাঁচোয়া।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top