দীপঙ্কর নন্দী: ‘‌বাংলায় কোনও অবস্থাতেই এনপিআর হবে না, হবে না, হবে না। ১৭ জানুয়ারি দিল্লিতে এনপিআর নিয়ে বৈঠকে আমি তো যাবই না, আমার সরকার থেকেও কাউকে পাঠাব না। এতে সরকার ভেঙে দিলে দিক।’‌  বুধবার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অবস্থান মঞ্চে একথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি আবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, এখানে একজন ভদ্রলোক আছেন, তিনি বিজেপি–‌র মুখপাত্র। তিনি নিশ্চয় বলবেন, এখানকার সরকার ভেঙে দিতে। ক্ষমতা থাকলে ভেঙে দিক। আমি যেটা মানব না, মানব না। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কেন্দ্র যেমন নির্বাচিত সরকার, আমরাও নির্বাচিত সরকার। 
মমতা এদিন মঞ্চে নিজের আধার কার্ড এনে দেখিয়ে বলেন, ‘‌২০১৬–‌য় আধার কার্ডে আমার বাবার নাম রয়েছে। ওয়েবসাইট থেকে মমতা ২০২০–‌র একটি আধার কার্ড বের করে এনেছিলেন এদিন। সকলকে দেখিয়ে বলেন, দেখুন এখানে বাবার নাম নেই। একজন প্রধানমন্ত্রী, দুটি আধার কার্ড!‌ আধার কার্ড নিয়ে জালিয়াতি হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আধার কার্ডে বাবা–‌মা’‌র নাম লাগবে না। এখন যাদের আধার কার্ড দেওয়া হচ্ছে, তাতে অভিভাবকদের নাম থাকছে না। চুপি চুপি সব করা হচ্ছে। অপরাধ করা হচ্ছে। মানুষকে ঠকানো হচ্ছে। জালিয়াতি, প্রতারণা করা হচ্ছে। পোস্ট অফিস ও ব্যাঙ্কে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন, কেন এসব করা হচ্ছে?‌ এই সরকারের ভাল কাজ করার কোনও ইচ্ছা নেই। আমি এদের ঘৃণা করি। আমি যদি ভুল করি, তাহলে নিশ্চয়ই ক্ষমা চাইব। তুমি আড়ালে আবডালে কেন এই ধরনের কাজ করবে?‌’‌
সিপিএমকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘‌ওদের দলের মুখপত্রে এনপিআর নিয়ে মিথ্যে কথা লেখা হচ্ছে। লেখা হচ্ছে এনপিআরের কাজ শুরু হয়েছে। হয় প্রমাণ করুন, না হলে ক্ষমা চান। আমি কিন্তু আইনি পথে যাব। সিপিএম–‌ বিজেপি জগাই–‌মাধাই। মোদি আসার দিন রাজভবনে গিয়েছিলাম, তা নিয়েও বিক্ষোভ করল। ‘‌গো ব্যাক’‌ স্লোগান দেওয়া হল। অথচ, ওদের দলের কাগজে পোর্ট ট্রাস্টের বিজ্ঞাপন দেওয়া হল। প্রধানমন্ত্রীকে গ্লোরিফাই করা হল। আমি ওদিন কলকাতা বন্দর, বেলুড় এমনকি বিমানবন্দরেও যাইনি। আমি রাজভবনে গিয়েছিলাম, নো এনআরসি ব্যাজ লাগিয়ে। বুকের পাটা আছে তাই গিয়েছিলাম। পন্ডিচেরিতে অমিত শাহকে ওখানকার মুখ্যমন্ত্রী বড় ফুলের তোড়া দেন। সিপিএম এখানে কি বলবে?‌’‌ 
মমতা বলেন, আমাকে দেখে এত অ্যালার্জি কেন?‌ ৩৪ বছর রিগিং করে জিতেছে। এখন সব ভোট বিজেপিকে দিয়ে দিচ্ছে। সিপিএম তো কোনওদিন আন্দোলন করেনি। আন্দোলন কী তা জানে না।’‌ এদিন অবস্থান মঞ্চে ভিড় ছিল। মুখ্যমন্ত্রী আসেন সন্ধে ৬টা নাগাদ। মুখ্যমন্ত্রী এসে ছাত্রদের গান শোনেন। ইন্দ্রনীল সেন ও দোলা সেন গান করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‌‘‌বৃহস্পতিবার আমি আসব। রবিবার পর্যন্ত তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এখানে অবস্থান করবে। এরপর এই মঞ্চে সোমবার থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস অবস্থান চালাবে। ২৮ থেকে ৩০ জানুয়ারি তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়ন অবস্থান করবে। ৩১ জানুয়ারি থেকে ছাত্র পরিষদ ফের বসবে। একদিন তারা পড়াশোনা করতে পারেনি, তাদের পড়াশোনা করার জন্য সময় দিতে হবে। তারপর নতুন উদ্যম নিয়ে ওরা আবার নামবে।’‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top