বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা, সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের পর হিংসার অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী বিজেপি বারবার সরব হয়েছে। আঙুল তুলেছে তৃণমূল সরকারের দিকে। এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ একটি নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনে তদন্তের জন্য ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। সেই কমিটির তদন্তের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টে  রিপোর্ট দিল কমিশন। 
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন অরুণ মিশ্র এই কমিটি গড়ে দেন। সদস্যরা রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ৩১১টি জায়গায় ১৬ দিন ধরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তার ভিত্তিতেই ৫০ পাতার রিপোর্ট তৈরি করে ক্যালকাটা হাইকোর্টে জমা দেয় কমিশন। 
মোট ১,৯৭৯টি অভিযোগ খতিয়ে দেখে এই কমিটি। সবথেকে বেশি অভিযোগ জমা পড়ে কোচবিহার, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা। যেসব থানার অন্তর্গত এলাকায় হিংসা বেশি হয়েছে, সেগুলো হল বারুইপুর পিডি, বসিরহাট পিডি, ব্যারাকপুর পিসি। 
কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে ১,৯৩৪টি অভিযোগ রাজ্যের বিভিন্ন থানায় জমা পড়েছে। তার মধ্যে ১,১৬৮টি অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। তাতে নাম রয়েছে ৯,৩০৪ জনের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে মাত্র ১,৩৪৫ জন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার মধ্যে আবার জামিন পেয়ে গিয়েছেন ১,০৮৬। এই মামলাগুলোর মধ্যে ১২টি ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থা, ২৯টি খুনের মামলাও রয়েছে। 
তদন্তের পর কমিটি সুপারিশ করেছে, যে খুন ও ধর্ষণের মামলায় সিবিআই তদন্ত করানোর নির্দেশ দিক আদালত। আর সেগুলোর বিচার যেন ভিন রাজ্যে হয়, তাও আর্জি জানিয়েছে। বাকি মামলার তদন্তের জন্য আদালত যেন সিট গঠন করে বলে সুপারিশ করেছে কমিটি। ফাস্ট ট্র‌্যাক কোর্টে এগুলোর শুনানির কথাও বলা হয়েছে। মামলার সাক্ষী এবং নির্যাতিতা মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়টিও আদালতকে দেখতে বলেছে কমিটি। পাশাপাশি যাঁদের ঘর, সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে, তাঁদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থার দিকটিও দেখতে বলা হয়েছে।