Election: নতুন নিয়ম! ভোটে দাঁড়াতে হলে দিতে হবে পরীক্ষা, তারপর জিতে হওয়া যাবে মন্ত্রী

আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবার থেকে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী বা ক্রীড়ামন্ত্রী পদে ভোটে দাঁড়াতে গেলে বসতে হবে পরীক্ষায়।

পাশ করার পর তবেই দাঁড়ানো যাবে নির্বাচনে। আর তারপর ভোটে জিতলে  তবেই হওয়া যাবে পদাধিকারী। এক ঝলকে গোটা বিষয়টি শুনে অবান্তর মনে হলেও মুর্শিদাবাদ জেলার ৩০ নম্বর আন্ডিরণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদাধিকারীরা এভাবেই নির্বাচিত হন। আগামী শনিবার স্কুলের প্রায় ১৮৭ জন ছাত্রছাত্রীরা বসতে চলেছে মন্ত্রী হওয়ার পরীক্ষায়।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ দত্ত বলেন, ‘২০১২ সালে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর এবং সর্বশিক্ষা মিশন একটি নির্দেশ জারি করে প্রত্যেক স্কুলে শিশু সংসদ নির্বাচন এবং ক্যাবিনেট মন্ত্রী নির্বাচন করতে বলে। কিন্তু রাজ্যের বেশিরভাগ স্কুলে এই পদ্ধতিটি  নির্বাচনের পরিবর্তে মনোনয়নের ভিত্তিতে হয়ে থাকে।’

বিশ্বজিৎবাবু বলেন, ‘আমাদের দেশের সংবিধানে রাজনীতিতে আসার জন্য কোনও শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা বলা হয়নি। তাই অল্প শিক্ষিত থেকে শুরু করে অর্ধশিক্ষিত সকলেই রাজনীতিতে এসে বড় বড় পদ পেয়ে যান। কিন্তু নির্বাচনে লড়াই এবং কোনও পদ পাওয়ার জন্য যে যোগ্যতার দরকার হয় সেই বিষয়টি ছোট থেকেই বোঝানোর জন্য আমার স্কুলে শিশু সংসদ নির্বাচনে আমরা মনোনয়নের পরিবর্তে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু রয়েছে।’

আরও পড়ুন: ‘বিজিবিএস সফল’, দাবি মমতার, ঘোষণা করলেন ২০২৩-এর বাণিজ্য সম্মেলনের নির্ঘণ্টও

তিনি জানান, ‘তবে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে গেলে ছাত্রছাত্রীদের একটি পরীক্ষায় বসতে হয়। সেই পরীক্ষায় যারা সর্বোচ্চ নম্বর পাবে তারাই ভোটে লড়ার অধিকার পাবে। ভোটে যারা জয়ী হবে তারা হবে মন্ত্রী। আর পরাজিতরা হবে প্রতিমন্ত্রী।’

শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, ‘প্রত্যেক প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রী ,পরিবেশ ও শিক্ষামন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রীর পদ রয়েছে।
ছাত্রদের মধ্যে হওয়া প্রধানমন্ত্রী স্কুলের দৈনন্দিন সমস্ত বিষয়গুলির প্রতি লক্ষ্য রাখে। খাদ্যমন্ত্রী মূলত স্কুলের মিড ডে মিল ঠিকঠাক চলছে কিনা তা দেখে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছাত্রছাত্রীরা ঠিকমতো নখ, চুল কাটছে কিনা এবং ‘বেসিক হাইজিন’ মেনে চলছে কিনা তা দেখে।  পরিবেশমন্ত্রী স্কুল প্রাঙ্গন পরিষ্কার রাখার বিষয়টি নজরে রাখে। আর ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাত্রছাত্রীরা ঠিকমতো খেলাধুলা-সংস্কৃতির দিকে নজর রাখছে কিনা তা দেখা। 

বিশ্বজিৎবাবু বলেন, ‘তবে আমার স্কুলে এই পদগুলো পাওয়ার জন্য ছাত্রছাত্রীদেরকে ৪০ নম্বরের একটি পরীক্ষা দিতে হয়। সেই পরীক্ষায় পাশ করলে তবেই তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্য হয়। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য এই পরীক্ষা হয় মৌখিক।’ আগামী শনিবার (২৩ এপ্রিল) আন্ডিরণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সেই যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা হতে চলেছে এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ক্যাবিনেট গঠন হবে বলে স্কুল সূত্রে জানানো হয়েছে।

ছাত্র-ছাত্রীদের মনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কীভাবে ভোট হয় তা বোঝানোর জন্য ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনে যেমন রকম বিভিন্ন রঙের ব্যালট বক্স থাকে সেরকমই বিভিন্ন রঙের ব্যালট বক্স থাকবে এই স্কুলের পাঁচটি পৃথক পদাধিকারীদের জন্য।

ভোট প্রক্রিয়াতে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আন্ডিরণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট পরিচালনার জন্য আশপাশের কিছু স্কুল থেকে ছাত্রছাত্রীরা আসবে। তারাই প্রিসাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে গণনা পর্যন্ত বাকি সমস্ত দায়িত্ব পালন করবে।

বিশ্বজিৎবাবু বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের মনে থেকে অঙ্কের ভীতি দূর করার জন্য ভোট গণনার গোটা প্রক্রিয়াটাই তারাই পরিচালনা করবেন। কত ভোট পড়ল, কোন প্রার্থী কত ভোট পেল,এটা তারাই দেখবে যাতে  যোগ-বিয়োগের বিষয়টি ভালভাবে বুঝতে পারে। এর পাশাপাশি কোভিড সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নির্বাচনী প্রতীকেও থাকবে চমক।  স্যানিটাইজার বোতল, মাস্ক ,অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রকৃতি হবে নির্বাচনী প্রতীক।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছোটছোট ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে বুথের ভিতর ঢুকে গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়া দেখা বা বোঝা সম্ভব নয়। তবে স্কুল স্তর থেকেই যদি ‘মন্ত্রী’ হতে গেলে পরীক্ষায় বসে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয়, এই ধারণা মনের ভিতর ঢুকে যায় তা আগামী দিনে দেশের গণতন্ত্রকে আরও মজবুত করবে।’

আকর্ষণীয় খবর