Bank Fraud: ‌মোবাইলে আসা লিঙ্কে ক্লিক করলেই সর্বনাশ!‌ প্রতারণার নয়া ফাঁদ জামতাড়া গ্যাংয়ের 

আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আসরে ফের জামতাড়া গ্যাং?‌ প্রতারণার এ যে নয়া পদ্ধতি।

সেটা কিরকম?‌ না মোবাইলে আসা মেসেজে ক্লিক করলেই লাফাচ্ছে মেসেজ। মোবাইলের স্ক্রিন জুড়ে আলোর বন্যা। কালো রঙের অক্ষর নিমেষের মধ্যে হয়ে যাচ্ছে লাল, সবুজ ও আরও রকমারি রংয়ের। এরপরই মোবাইল হয়ে যাচ্ছে বন্ধ। যতক্ষণে খুলছে, ততক্ষণে গ্রাহকের এক বা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও টাকা। প্রতারণার এই নয়া পদ্ধতিতে দিশেহারা কলকাতার মানুষ। 
কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মহিলা অধ্যাপক এই অভিজ্ঞতার কবলে পড়েছিলেন। তাঁর দু’টি অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। তিনি লালবাজারের সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। গোয়েন্দাদের ধারণা, এর পিছনে থাকতে পারে ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া গ্যাং। এই ধরনের জালিয়াতির হাত থেকে বাঁচতে ব্যাঙ্কের অ্যাপ ডাউনলোড করে অনলাইনে টাকা লেনদেনের মাত্রা যথাসম্ভব কমানোর পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা।
পুলিশের মতে, পদ্ধতি পাল্টেছে ব্যাঙ্ক জালিয়াতরা। আগে জালিয়াতরা শুধু নিজেদের ব্যাঙ্ক আধিকারিক বলে পরিচয় দিত। এখন তার সঙ্গে ‘টার্গেট’‌–এর সম্পর্কে তথ্যও তারা জোগাড় করছে। ওই মহিলা অধ্যাপককেও ফোন করেছিল জালিয়াতরা। তাঁর মোবাইলের ‘ট্রু কলারে’ ভেসে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। একই সঙ্গে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিক ও অধ্যাপকরাও জালিয়াতদের দেওয়া পদ্ধতি ব্যবহার করে কেওয়াইসি আপডেট করেছেন বলে দাবি করে তারা। জালিয়াত তাঁর কয়েকজন সহকর্মীর নামও বলে। নিজেদের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্মী ও ছুটির দিনেও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করছেন বলে দাবি তোলে। এভাবে বিভিন্ন সময় নিজেদের বিশ্বাসভাজন করে তোলে জালিয়াতরা। ফলে সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও তিনি জালিয়াতদের পাঠানো লিঙ্কে ক্লিক করেন। 

আরও পড়ুন:‌ কেন বাদ পড়ল বাংলার ট্যাবলো?‌ মমতাকে চিঠিতে জানালেন রাজনাথ 


মহিলা অধ্যাপকের কথায়, লিঙ্ক ক্লিক করার সঙ্গেই যাবতীয় মেসেজ লাফাতে শুরু করে। পাল্টাতে শুরু করে মেসেজের রং। প্রচুর মেসেজ আসতে ও মুছে যেতে থাকে। এরপর বন্ধ হয়ে যায় মোবাইল ফোন। অন্তত পনেরো মিনিট মোবাইলই খুলতে পারেননি তিনি। কিন্তু যখন খোলেন, দেখেন যে, তাঁর একটি ব্যাঙ্ক থেকে উধাও ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৪০৪ টাকা। সেই অ্যাকাউন্টে পড়ে রয়েছে ৫১ টাকা। অন্য একটি অ্যাকাউন্টে পড়ে রয়েছে ১৭ টাকা। সেখান থেকে উধাও প্রায় ৪২ হাজার টাকা। এরপরই তিনি সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ বলছে, লিঙ্ক ক্লিক করলেই মোবাইল হ্যাক হয়। একটি মিরর অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হয়ে যায়। তখনই মোবাইলের স্ক্রিন জুড়ে বইতে থাকে আলোর বন্যা। নিমেষের মধ্যেই মোবাইলের দখল নিয়ে টাকা হাতাতে শুরু করে জালিয়াতরা। 

আকর্ষণীয় খবর