Netaji Subhas Engineering College: নেতাজি সুভাষ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের রজত জয়ন্তী!‌ আজকের মুহূর্ত বড় গর্বের: সত্যম রায়চৌধুরী

‌আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিছকই একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নয়।

নেতাজি সুভাষ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ আজ একটি ‘‌রোল মডেল’‌। চলার পথের দিশারী। সোমবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৬ তম জন্মবার্ষিকীতে এই কলেজের রজত জয়ন্তী উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা জানালেন এই মতামত। পথ চলা শুরু হয়েছিল ২৫ বছর আগে। টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের প্রথম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে। তার পরেরটা শুধুই সাফল্যের পথে এগিয়ে যাওয়া। পুরনো সেই দিনের কথা স্মরণ করে এদিন কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের (টিআইজি) ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির (এসএনইউ) আচার্য সত্যম রায়চৌধুরী বলেন, ‘‌যখন কলেজের জন্য সরকারের থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি পেলাম তখন ভাবা যায়নি এই কলেজ আজ এতবড় জায়গায় পৌঁছবে।’‌ তিনি এবং তাঁর দাদা টিআইজির চেয়ারম্যান গৌতম রায়চৌধুরী স্থাপন করেছিলেন এই কলেজ। সেদিন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল ধানক্ষেত। বসতি প্রায় ছিল না বললেই চলে। সেদিনের কথা স্মরণ করে টিআইজির ম্যানেজিং ডিরেক্টর বলেন, ‘‌প্রথম এখানে ফাঁকা জায়গা দেখে ভেবেছিলাম এখানে কি কলেজ সম্ভব হবে?’‌ আজ সেই কলেজের পড়ুয়াদের জন্য তিনি গর্বিত। তাঁর ভাষায়, ‘‌শুরুটা হয়েছিল ১৮০ জন পড়ুয়া নিয়ে। এখন এখানকার হাজারের ওপর পড়ুয়া বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছেন এবং তাঁরা পেশাগতভাবে ভাল জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। আজকের মুহূর্তটা সত্যি গর্বের।’‌ আগামীদিনে কলেজের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এদিন শিক্ষক এবং পড়ুয়াদের তিনি আহ্বান জানান। কলেজের ডিরেক্টর ড. হৃষিকেশ মণ্ডল বলেন, ‘‌২৫ বছর ধরে এখানে শিক্ষা ব্যবস্থাকে দারুণভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’‌ 
টিআইজির গ্রুপ সিইও অধ্যাপক শঙ্কু বোস বলেন, ‘‌এই ২৫ বছরে অন্তত ২০,০০০ স্নাতক এই কলেজ থেকে পাস করে বেরিয়ে গেছেন।’‌ এসএনইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড: ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‌গত ২৫ বছরে এই কলেজ শিক্ষার প্রসারে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এখানকার পড়ুয়ারা যে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে আছেন সেটাই বোঝায় এই কলেজ কতটা এগিয়ে গেছে।’‌ কলকাতার ন্যাশনাল অ্যাটলাস অ্যান্ড থিমাটিক ম্যাপিং অর্গানাইজেশনের প্রাক্তন ডিরেক্টর ড: পৃথ্বীশ নাগ বলেন, ‘‌রাজ্য এবং দেশে এই কলেজ একটা রোল মডেল।’‌ মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজের ডিরেক্টর ড: স্বরূপপ্রসাদ ঘোষ বলেন, ‘‌সমাজে শিক্ষা এবং জ্ঞানের প্রসারে এই কলেজ খুব ভাল ভূমিকা পালন করছে।’‌ গ্রুপ ক্যাপ্টেন বিষ্ণু শর্মা বলেন, ‘‌এটা একটা গর্বের মুহূর্ত।’‌ 
এই অঞ্চলের মানুষের কাছে এই কলেজ একটা গর্ব, জানিয়েছেন সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ফিরদৌসি বেগম। সত্যম রায়চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়ে বেলুড় মঠের রামকৃষ্ণ মিশন শিল্প মন্দিরের স্বামী বেদাতিতানন্দ বলেন, ‘‌একটা কলেজের সাফল্যের সঙ্গে ২৫ বছর অতিক্রম করাটা খুবই বড় ব্যাপার।’‌ কলেজের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেছেন দ্য নেওটিয়া ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ।‌ কলেজের প্রাক্তনী এবং রাজ্যের টেকনিক্যাল এডুকেশনের ডিরেক্টর অনিন্দিতা গাঙ্গুলি বলেন, ‘‌এই কলেজ নেতাজির আদর্শে বিশ্বাসী। সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’‌ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক অমলকুমার ঘোষ। দুদিন ব্যাপী এই রজত জয়ন্তী উৎসবে সোমবার ছিল ছাত্রছাত্রীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছিল চন্দ্রবিন্দুর গান।

আরও পড়ুন:‌ গার্হস্থ্য হিংসা মামলায় স্ত্রী হাসিনকে খোরপোশ দিতে হবে, সামিকে নির্দেশ আদালতের

আকর্ষণীয় খবর