ব্যাকরণহীন শব্দে কমিক্সকে অন্যমাত্রায় পৌঁছে দিয়েছেন নারায়ণ দেবনাথ, মত পবিত্র সরকার, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের

বিভাস ভট্টাচার্য: ফ্রুচত্, ঘুঁপ, ফরর ফৎ।

নানারকম শব্দ। কোনও শব্দে মুখ থেকে জল বের করার আওয়াজ বোঝাচ্ছে আবার কোনও শব্দ বোঝাচ্ছে পেটে ঘুঁষি মারার আওয়াজ। আবার কোথাও নাকডাকার আওয়াজ বোঝাতে ব্যবহার হচ্ছে ‘ফরর ফৎ’ শব্দটি। ব্যাকরণ বহির্ভূত বা বাংলা ব্যাকরণের সম্পূর্ণ বাইরে। গল্পের চরিত্র অঙ্কন এবং সেই সঙ্গে এই ধরনের শব্দের ব্যবহার। যা সম্পূর্ণ অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছিল নারায়ণ দেবনাথের কমিক্সকে। শিশুমনের কিশলয় পরিণত হত এই ধরনের শব্দকে মাথায় রেখে। হেসে খেলে তাঁর কমিক্সের এক একটি চরিত্রে এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করে গেছেন নারায়ণ দেবনাথ। মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যুর পর এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রখ্যাত ভাষাবিদ পবিত্র সরকার Aajkaal.inকে বলেন, 'এই শব্দ ব্যাকরণেও নেই এবং অভিধানেও নেই। এগুলো তিনি বানিয়েছেন। অনেকটা প্রতিধ্বনির মতো। কিন্তু প্রতিধ্বনিটাকে অতিরঞ্জন করে একটা চেহারা তিনি দিয়েছেন। যেটাকে শব্দের একটা 'জাগলারি' বলা যায়। একটা সম্পূর্ণ মৌলিক প্রতিভা। আমরা চিৎকার বা ধমকের আওয়াজ একরকমভাবে লিখি। কিন্তু সেটা খানিকটা অনুসরণ করি। কিন্তু তিনি সেটা না করে একটু অতিরঞ্জন করেছেন। এই শব্দের আবিষ্কর্তা সম্পূর্ণভাবে তিনিই। আপামর বাঙালি যা সাদরে গ্রহণ করেছে।' 

আরও পড়ুন: বাঙালি আত্মবিস্মৃত জাত, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ নারায়ণ দেবনাথ 

নাম এবং শব্দ, নারায়ণ দেবনাথের কমিক্সে যা হাত ধরাধরি করে এগিয়েছে। এ বলে আমায় দেখ আবার ও বলে আমায় দেখ। সুপারিনটেনডেন্ট পাতিরাম হাতি ভুঁড়িসমেত ওইরকম বেঢপ চেহারা নিয়ে কেল্টুর মাথায় যখন 'গদাম' শব্দে কিল মারছেন তখন আশেপাশে তারা দেখতে দেখতে কেল্টুর মুখ দিয়ে আওয়াজ বেরিয়ে আসছে 'ওকৎ'। আবার দোলের দিন ধেয়ে আসা রঙ ভরা বেলুন কেল্টুর মুখে এসে 'ফ্যাচাৎ' শব্দে ফাটছে। বা কখনও বাঁটুল 'টিঙ টিঙ' করে তার দিকে ছুটে আসা গুলি টোকা মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে। পাঠকের কল্পনার নৌকাকে এই ধরনের শব্দ এগিয়ে নিয়ে গেছে তরতর করে। যা নিয়ে বলতে গিয়ে Aajkaal.inকে সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, 'ব্যাকরণের বাইরে এই শব্দগুলো নারায়ণ দেবনাথের কমিক্সকে একটা আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে।'
 

আকর্ষণীয় খবর