যজ্ঞেশ্বর জানা, তমলুক, ১২ আগস্ট- ফোনটা এসেছিল শুক্রবার রাতে। সেই ফোনটা ধরেছিলেন স্ত্রী হাসিনার বিবি। ফোনের অন্যপ্রান্ত থেকে ভেসে এসেছিল, ‘ইদে বাড়ি ফিরব।’ সেই কথা মতোই ইদের সকালে বাড়ি ফিরলেন তমলুকের ধলহরা গ্রামের বাসিন্দা বছর আটচল্লিশের শেখ রেজাবুল। কিন্তু কফিনবন্দি হয়ে। ইদে তাই বিষাদের ছায়া ধলহরা গ্রামে। সোমবার সকালে রেজাবুলের মৃতদেহ গ্রামে ফেরে। মৃতদেহ আসার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন সকলেই। 
মাস দেড়েক আগে স্থানীয় এক ঠিকাদার শেখ মুস্তাফার সঙ্গে ওডিশার ভদ্রকে রাজমিস্ত্রির কাজে গিয়েছিলেন রেজাবুল। কিন্তু শনিবার সকালে সহকর্মীদের মারফত তঁার মৃত্যুর খবর বাড়িতে আসে। জানানো হয়, রেজাবুল গলায় ফঁাস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক রেজাবুলের পরিবার। তঁাদের অভিযোগ, ‘‌খুনই হয়েছেন রেজাবুল। ঘটনার খবর পেয়েই শনিবার ওডিশা পৌঁছে গিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। ময়নাতদন্তের পর দেহ নিয়ে ফেরার আগে ওডিশার ধামনগর থানায় খুনের অভিযোগও জানিয়ে আসেন তঁারা। মৃতের ভাই শেখ মুক্তারুল হোসেন বলেন, ‘‌ইদে ছেলে বাড়ি আসছে জানতে পেরেই দাদা বাড়ি ফিরতে চেয়েছিল। ঠিকাদারের কাছে টাকা চেয়েছিল বাড়ি ফিরবে বলে। কিন্তু ঠিকাদার টাকা দেয়নি। উপরন্তু কাজের চাপ রয়েছে জানিয়ে বাড়ি আসতে মানা করে। ঠিকাদারের কথা না শুনেই বাড়ি ফেরার তোড়জোড় শুরু করেছিলেন দাদা।’‌ তঁার অভিযোগ, ‘‌সেই কারণেই ঠিকাদার তার অন্য মিস্ত্রিদের টাকাপয়সা দিয়ে ও মদ খাইয়ে পরিকল্পনা করেই এই খুন করেছে। যা দাদার শরীরের একাধিক আঘাতের চিহ্ন থেকে পরিষ্কার। আমরা চাই পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের কঠোর শাস্তি দিক।’‌
ঠিকাদার শেখ মুস্তাফার দাবি, ‌রেজাবুল আত্মহত্যা করেছেন। সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘‌খুনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি ওদের সঙ্গে থাকতাম না। শ্রমিক ও মিস্ত্রিরা আলাদা থাকত। শ্রমিকদের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। কোনও শ্রমিক খুন করেছে বলে আমার মনে হয় না। বাড়ি আসতে না দেওয়ার অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করুক।’‌ গ্রামে রেজাবুলের প্রতিবেশীরাও শোকস্তব্ধ। তাই সোমবার ইদের অনুষ্ঠান হলেও তা ছিল অনেকটাই অনাড়ম্বর।

রেজাবুলের মৃত্যুতে শোকার্ত মেয়ে। ছবি:‌‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top