প্রদীপ দে, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের তিনটি লোকসভার তৃণমূল প্রার্থীদের জয়ী করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে উপহার দেওয়ার শপথ নিলেন নেতা–কর্মীরা। শনিবারের সভায় প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডল। তঁার নিদান, ‘‌মুর্শিদাবাদের জমি উর্বরা। ঠিক এইভাবে চাষ করুন। অধীরের মতো বেইমানরা চোখ রাঙালে পঁাচন মেরে সোজা করুন। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি।’‌
এদিন বহরমপুর ওয়াইএমএ মাঠে নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সভায় উপস্থিত ছিলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডল, মন্ত্রী জাকির হোসেন, জেলা সভাপতি সুব্রত সাহা, যুবনেতা সৌমিক হোসেন–সহ জেলা নেতৃত্ব। মুর্শিদাবাদের তিন প্রার্থীও উপস্থিত ছিলেন। তঁারা হলেন অপূর্ব সরকার, আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান ও মালদা দক্ষিণের মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‌বিজেপি সাম্প্রদায়িক দল। আমরা জানি। কিন্তু আরও এক ভয়ঙ্কর শত্রু আছে, তঁার নাম অধীর চৌধুরি। তিনি হলেন অচেনা শত্রু। এরাজ্যে কংগ্রেস বরাবরই ছিল সিপিএমের ‘‌বি টিম’‌। আর অধীরের মতো নেতা এসে কংগ্রেসকে করেছে সিপিএমের এ টিম। তলে তলে তো বিজেপি–র সঙ্গে অঁাতাত রয়েছে। আপনারা কি জানেন, অধীরের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু কে? যোগী আদিত্যনাথ। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। নিজের দলে কেউ তঁার বন্ধু নন। অধীর নিজের স্বার্থে খুনি সিপিএমের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। সেজন্য মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসিরা দল ছেড়ে তৃণমূলে এসেছেন। অধীরকে তো হারাতেই হবে, তার সঙ্গে বিজেপিকেও দূর করতে হবে।’‌
অনুব্রত মণ্ডল তঁার বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে বলেন, ‘‌বেইমান অধীর আর খুনি সিপিএম হাতে হাত মিলিয়েছে। আমাদের কিছু হবে না। হাতে পঁাচন রাখুন। কোনও ভয় পাবেন না। কেউ চোখ রাঙালে আপনিও চোখ রাঙান। হাত তুললে হাত নামিয়ে দিন। মুর্শিদাবাদ হল উর্বরা জমি। মনের আনন্দে চাষ করুন। চাষে কেউ বাধা দিতে এলে পঁাচনের বারি মেরে তাকে সোজা করে দিন।’‌ এরপরই কর্মিদের বলেন, ‘‌কী —পঁাচন ধরতে পারবেন তো?’‌ কর্মীরা সমবেত ভাবে বলে ওঠেন, ‘‌পারব,পারব।’‌ অনুব্রত আরও বলেন, ‘‌বিএসএফ, সিআরপিএফ এসেছে। তো কী হল? আসতে দিন। ঘুরুক। আপনারা আপনাদের ভোট করুন। আমি পাশে আছি। ডাকলেই চলে আসব।’‌
শুভেন্দু বলেন, ‘‌আমাদের এই লড়াইতে জয়ী হতেই হবে। জঙ্গিপুর আর মুর্শিদাবাদের ভোট ২৩ এপ্রিল। বহরমপুরে হবে ২৯ এপ্রিল। ২৩ তারিখের পর থেকে আমি বহরমপুরে থাকব। অলিগলিতে ঘুরব। অধীরকে হারাবই। এখনও বিজেপি প্রার্থী দেয়নি। বিজেপি প্রার্থী কে হবে, তা নিয়েও কথা বলছেন অধীর। কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম সবাই এক হয়েছে। তবে বলে রাখছি, বহরমপুরের দায়িত্ব আমি আমার কঁাধে তুলে নিলাম।’‌ এদিন ভরতপুরের অধীর ঘনিষ্ঠ ব্লক নেতা আব্দুল বারি তৃণমূলে যোগ দেন। এদিনের সভায় মন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, ‘‌মুর্শিদাবাদ ছিল পিছিয়ে পড়া জেলা। কংগ্রেস, সিপিএম বছর বছর ক্ষমতায় থাকলেও কোনও কাজ হয়নি। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উদ্যোগে জেলা জুড়ে কাজের জোয়ার বইছে। জেলার মেয়েরা সবুজসাথী সাইকেল চেপে স্কুলে আসে। সংখ্যালঘু জেলা মুর্শিদাবাদে বিজেপি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, আরএসএস বিভেদ করার চেষ্টা করে। কিন্তু আমরা জেলার সব ধর্মের, সব বর্ণের মানুষ হাতে হাত ধরে থাকি।’‌
জেলার কার্যকরী সভাপতি সৌমিক হোসেন বললেন, ‘‌মুর্শিদাবাদে তৃণমূল এক নম্বর দল। আগে অধীরবাবুরা বলতেন, তৃণমূলকে অনুবীক্ষণ যন্ত্রেও খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু সেই অধীরবাবুর দল কংগ্রেসকে আর দেখতে পাওয়া যায় না। একই হাল সিপিএমের। পঞ্চায়েত ভোটে প্রমাণিত হয়েছে। বিরোধীরা সব বুথে এজেন্ট দিতে পারবেন তো? আমরা তিনটি কেন্দ্র দিদিকে উপহার দেব।’‌ বহরমপুরের প্রার্থী অপূর্ব বলেন, ‘‌পিরামিডের মতো যে সাম্রাজ্য অধীরদা করেছিলেন, তার তলায় ছিল হাজার হাজার কংগ্রেস কর্মীরা। কিন্তু সেই কর্মীরা আজ তৃণমূলে। পিরামিড ধ্বসে পড়ছে।’‌ আরেক প্রার্থী আবু তাহের খান বলেন, ‘‌অধীর নেতা হতে পেরেছিলেন,পাশে আমাদের মতো সেনাপতিরা ছিলেন, তাই। এখন তঁার পাশে কেউ নেই।’‌ জঙ্গিপুরের নতুন মুখ খলিলুর রহমানের কথায়, ‘২০১৬–র বিধানসভায় দিদি আমাকে প্রার্থী করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অসুস্থ থাকায় প্রার্থী হওয়া হয়নি। এবার দিদি আমার ওপর ভরসা রেখেছেন। কথা দিচ্ছি, জঙ্গিপুর দিদির হাতে দেবই।’ বহরমপুরের সভা নিয়ে দলীয় কর্মীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উন্মাদনা।

 

বহরমপুরে তৃণমূলের জেলা সমাবেশ। হাজির শুভেন্দু, ফিরহাদ, অনুব্রত। রয়েছে প্রার্থী আবু তাহের, অপূর্ব সরকার ও খলিলুর রহমান। ছবি: চয়ন মজুমদার

জনপ্রিয়

Back To Top