মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের 'গদ্দার' দের তৃণমূলে ফেরানো যাবে না!‌ শীর্ষ নেতৃত্বকে চিঠি জেলা নেতাদের

আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের 'গাদ্দার' তৃণমূল নেতাদের দলে ফেরানো যাবে না। শীর্ষ নেতৃত্বকে চিঠি জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্যদের। বিধানসভা ভোটের সময় দল বিরোধী কাজে যুক্তদের পুনারায় যাতে তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরিয়ে না নেওয়া হয় তা সুনিশ্চিত করবার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার তৃণমূল পরিচালিত মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ সদস্যরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন জেলা পরিষদ ভবনে। মঙ্গলবারের বৈঠকে একাধিক কর্মাধ্যক্ষ সহ ৫৮ জন তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদে মোট আসন ৭০ টি।  
এদিন জেলা পরিষদের তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেতা তজিমুদ্দিন খান সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন ,"ভোটের সময় জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোসারফ হোসেন, সহ সভাধিপতি বৈদ্যনাথ দাস সহ প্রায় ১১ জন জেলা পরিষদ সদস্য দলবিরোধী কার্যকলাপ করেছেন। তাই আজ জেলা পরিষদের সদস্যরা একজোট হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন  যারা দল বিরোধী কাজে বিধানসভা নির্বাচনের সময় যুক্ত ছিলেন তাদের কোন শর্তেই দলে নেওয়া হবে না।"

 

প্রসঙ্গত, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোসারফ হোসেন কংগ্রেসের টিকিটে নওদা আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। এর পাশাপাশি সুতি, রঘুনাথগঞ্জ এবং জলঙ্গি আসনেও একজন করে তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ভোটের প্রচারে বহরমপুরে এসে মমতা ব্যানার্জী ঘোষণা করেছিলেন দল বিরোধী কাজে যুক্ত সমস্ত সদস্যদের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে তিনি সাসপেন্ড করছেন।

 
সূত্রের খবর, সম্প্রতি মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফেরবার পরই দল বিরোধী কাজে যুক্ত তৃণমূলের বেশ কিছু জেলা পরিষদ সদস্য তৃণমূলে ফেরবার চেষ্টা শুরু করেছেন। ভোটে পরাজয়ের পর সভাধিপতি পদ থেকে ইতিমধ্যেই মোসারফ হোসেন পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু কোভিড অতিমারীর কারণে আপাতত নতুন সভাধিপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। 
তজিমুদ্দিন খান আজ জানান, "আমরা জেলা পরিষদ সদস্যরা মাঝে মধ্যে জেলা পরিষদ ভবনে ছোট ছোট বৈঠকে মিলিত হই। কিন্তু আজকে একটি বিশেষ কারণে আমাদের বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। ঐক্যমতের ভিত্তিতে আমরা আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিধানসভা নির্বাচনের সময় যে সমস্ত জেলা পরিষদ সদস্য দলের সাথে গদ্দারি করেছিলেন তাদেরকে আর দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে না।"

তিনি জানান, "আমরা আমাদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব এবং জেলা কোর কমিটির সদস্যদেরকে লিখিতভাবে জানাচ্ছি। এর পাশাপাশি আমরা আমাদের লিখিত আবেদন তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছেও পাঠাচ্ছি।"

যদিও স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কি মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি, সহ সভাধিপতি সহ অন্যান্য সদস্যরা রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে দলে ফিরতে চাইছেন। আর সেই জন্যই কি তড়িঘড়ি এই বৈঠকের আয়োজন? সূত্রের খবর আজকের বৈঠকে যে সমস্ত নেতারা উপস্থিত ছিলেন তাদের অনেকেই সভাধিপতি ও সহসভাধিপতি পদের দাবিদার। তবে গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছেন জেলার নেতারা।