আজকালের প্রতিবেদন: ফেসবুকে আলাপ। ফ্র‌্যাঙ্কলিন নামের এক যুবকের সঙ্গে নিউ আলিপুরের বাসিন্দা এক মহিলার বন্ধুত্ব হয়। তারপর প্রেম। এবং বিয়ের সিদ্ধান্ত। চ্যাটিংয়েই সিদ্ধান্ত হল, ফ্র‌্যাঙ্কলিন আমেরিকা থেকে আসবে কলকাতায়। প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করে বিয়ের দিন ঠিক হবে। এরপর ফ্র‌্যাঙ্কলিন ও তার বন্ধু দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছে কলকাতার প্রেমিকাকে ফোন করে বলে, তার বন্ধু বিদেশি মুদ্রা সম্পর্কে তেমন কিছু জানে না। ইমিগ্রেশনে কিছু আইনি জটিলতা চলছে। ভারতীয় মুদ্রায় ৭ লাখ টাকা দিতে না পারলে সমস্যা হবে। বন্ধুকে সাহায্যের জন্য ফ্র‌্যাঙ্কলিনকে থাকতে হবে দিল্লিতে। কলকাতায় আসা বা দেখা করা কোনওটাই বোধহয় হচ্ছে না। ওই যুবতী ফ্র‌্যাঙ্কলিনের প্রেমে অন্ধ। ফ্র‌্যাঙ্কলিন ওই যুবতীর মেলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাগজ, শুল্ক বিভাগের নথিপত্র আর নির্দিষ্ট একটি অ্যাকাউন্ট নম্বর পাঠায়। যুবতী সাতপঁাচ না ভেবেই ৭ লাখ টাকা পাঠিয়ে দিলেন। এরপর দেখা গেল, ফেসবুক প্রোফাইল উধাও। ফ্র‌্যাঙ্কলিনের ফোনও আর কাজ করে না। নিউ আলিপুর থানায় অভিযোগ হল। গোয়েন্দা বিভাগের ব্যাঙ্ক প্রতারণা শাখা তদন্তে নামল। অবশেষে দিল্লির মেহরৌলি থেকে গ্রেপ্তার করা হল ফ্র‌্যাঙ্কলিনকে। আসলে, নাম ভঁাড়িয়েছিল সে। নাইজেরীয় ওই ব্যক্তির নাম ডগলাস আদমোমো স্মার্ট। আর প্রযুক্তি বিষয়ক পটু তার বন্ধুর নাম আনুলি ফ্রান্সিস। দু’‌জনকেই গ্রেপ্তার করে ল্যাপটপ, গুচ্ছের আইফোন, ডজনখানেক সিমকার্ড পাওয়া গেল। মামলাটি পুরনো। চার্জশিট পেশ করেছিলেন তদন্তকারী অফিসার জিতেন্দ্র প্রসাদ। দোষী ২ অভিযুক্তের ৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড  হয়েছে।‌

আনুলি ফ্রান্সিস

জনপ্রিয়

Back To Top