আজকালের প্রতিবেদন,হুগলি: স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে অনেক আগেই। তবুও সন্তানের টানে দিনের পর দিন, খাওয়াদাওয়া ছাড়া শ্বশুরবাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন অসহায় মা। বিচ্ছেদের শোকে আগেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন বিপাশা রায়। বাড়ি নৈহাটি মিত্র পাড়ায়। ১৯৮২ সালে বিয়ে হয়েছিল অমল রায়ের সঙ্গে। অমলবাবু টেলিফোন বিভাগের কর্মী। একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে দম্পতির। বর্তমানে বিবাহিত মেয়ে কমলিকা রায়, ছেলে অভিজিৎ রায় দিল্লি এয়ারপোর্টে কর্মরত। অমলবাবু বিয়ের কয়েক বছর পর ২০০০ সালে হুগলির কাপাসডাঙায় বাড়ি কিনে চলে আসেন। তার পর থেকে পরিবার নিয়ে কাপাসডাঙার বাড়িতেই থাকতেন। দাম্পত্য কলহের জেরে ২০০৫ সালে বিপাশাদেবী নৈহাটিতে বাপের বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। অমলবাবু জানিয়েছেন, মানসিক রোগগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন বিপাশাদেবী। তাঁকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বিবাদ চরমে উঠেছিল। আদালতের দ্বারস্থ হয় দম্পতি। মামলা চলতে থাকে। হাসপাতালে ভর্তি থাকায় আদালতে তেমনভাবে হাজির হতে পারেননি বিপাশা দেবী। ২০১৫ সালে একতরফাভাবেই আদালতের নির্দেশে পাকাপাকি বিপাশাদেবীর সঙ্গে স্বামী অমলবাবুর বিচ্ছেদ হয়। একইসঙ্গে ছেলে এবং মেয়ে দুজনেই থেকে যায় বাবার সঙ্গে কাপাসডাঙার বাড়িতে। বিপাশাদেবী চলে যান নৈহাটিতে। অথচ বিচ্ছেদের তেমন কোনও প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি তাঁর মধ্যে। তিনি নৈহাটির বাড়িতে থাকতে শুরু করলেও মাঝে মাঝেই চলে আসেন কাপাসডাঙায়। শুধুমাত্র সন্তানদের দেখতে। গত তিন বছরে একাধিকবার তিনি কাপাসডাঙায় এসেছেন। 
অথচ আদালতের নির্দেশ, বাড়িতে ঢোকার অনুমতি মেলেনি। বিপাশাদেবী এসেছেন খবর মিললেই বার বার বন্ধ হয়েছে বাড়ির দরজা। সে সবের তোয়াক্কা না–‌করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকেছেন দিনের পর দিন। প্রথমদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে জলখাবার ইত্যাদি দিলেও বর্তমানে তা আর জোটে না। বিপাশাদেবীর এই কাহিনী অজানা নয় কাপাসডাঙার বাসিন্দাদের। তবুও অসহায় মানসিক ভারসাম্যহীন এই মহিলার দুরবস্থা সহ্য করতেও পারেন না। লুকিয়ে খাবারের প্যাকেট, জল ইত্যাদি পৌঁছে দেন। মানসিক ভারসাম্য না থাকলেও কোনও ভাবেই সন্তানের মায়া কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তবে কথাবার্তা শুনলে বোঝা যায় তিনি সম্পূর্ণই মানসিক ভারসাম্যহীন। সম্প্রতি বিপাশাদেবী কাপাসডাঙায় এসেছিলেন। তিন দিন পর স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে নৈহাটিতে। স্থানীয়রা সরকারি উদ্যোগে তাঁকে মানসিক হোমে ভর্তির দাবি তুলেছেন।
                                                                     ছবি: পার্থ রাহা

জনপ্রিয়

Back To Top