‌সব্যসাচী সরকার: এক যুগ কেটে গেল, কেউ ধরা পড়েনি!‌ তারা আদৌ কলকাতায় আছে নাকি ভিন রাজ্যে বা দেশের বাইরে, জানা নেই সিবিআইয়ের। অবশেষে পলাতক ৫ জনকে খুঁজে বের করার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করল সিবিআই। জনপ্রতি ১ লক্ষ টাকা। খোয়া গিয়েছে ২ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা। গত এক যুগে সুদে আসলে তা বেড়ে অনেকটাই হয়েছে। ব্যাঙ্কের ঘরে ফেরেনি। কলকাতার ওল্ড কোর্ট স্ট্রিটের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ম্যানেজার দায়িত্ব নেওয়ার পর কাগজপত্র মিলিয়ে দেখেন, টাকা ঘরে ফেরেনি।এক যুগ আগে মেসার্স এসআরএম বোল্ট ম্যানুফ্যাকচারিং প্রাইভেট লিমিটেডের ৫ জন ডিরেক্টর সংস্থার উন্নতিকল্পে ধাপে ধাপে সংস্থার কাগজপত্র জমা দিয়ে ৩ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা নিয়েছিল। এরা হল সুরেন্দ্র, রাজ, রাজেশ, মাধব, দীপক। এদের সবার পদবিই এক— চুরেওয়াল। সিবিআইয়ের অর্থনৈতিক দুর্নীতি দমন শাখাকে চিঠি লেখেন ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্তা। তাতে তিনি জানান, যে পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়েছিল, শুরুর দিকে কিছুটা শোধ দিলেও পৌনে ৩ কোটি টাকার মতো ঘরে ফেরেনি। এরপর গত ১২ বছর ধরেই সিবিআই ‘‌চুরেওয়াল’‌ পঞ্চপাণ্ডবকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। সিবিআইয়ের আশঙ্কা, হুলিয়া বদলে তারা বিভিন্ন নাম পাল্টে গা ঢাকা দিয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩টি ধারায় মামলা শুরুও করা হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেল কোনও খোঁজ নেই। মধ্যবর্তী তদন্তে সিবিআই দেখল, ওই র‌্যাঙ্কের তৎকালীন সাব–‌ম্যানেজার জনৈক শঙ্করবিজয় সাহার সঙ্গে চক্রান্ত করে ওই পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সংস্থার উন্নতির জন্য ঋণ নিতে গিয়ে যে সমস্ত কাগজপত্র দেওয়া হয়েছিল, তদন্তে দেখা গেছে তার পুরোটাই ভুয়ো। যে সমস্ত জায়গা দেখানো হয়েছে, অর্থাৎ স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে যা দেখানো হয়েছে, তার কোনও অস্তিত্বই নেই। সিবিআইয়ের অর্থনৈতিক দুর্নীতি দমন শাখার তদন্তকারীরা বলছেন, ১২ বছর আগে ঋণ দেওয়ার আগে ব্যাঙ্ক যে ধরনের খোঁজখবর নেয় এবং সরেজমিনে খতিয়ে দেখে তা কোনও রহস্যজনক কারণে করা হয়নি। এ থেকেই স্পষ্ট ঋণ দিতে গিয়ে ব্যাঙ্কের স্বার্থ না দেখে ভুয়ো গ্রাহকদের স্বার্থ দেখা হয়েছে। এখানে বহু টাকা বেআইনি লেনদেন হয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। সে সময় কারা ছিলেন, তাদেরও খোঁজ চলছে। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top