আজকালের প্রতিবেদন- বেলুড় মঠে এসে প্রধানমন্ত্রী রাজনীতি করে গেলেন— এ নিয়ে নানা মহলেই ছড়িয়েছে অসন্তোষ। এঁদের কেউ কেউ মিশনের সদস্য, কেউ সে–‌অর্থে দীক্ষিত না হলেও রামকৃষ্ণ–‌বিবেকানন্দে নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। বেলুড় মঠ তথা রামকৃষ্ণ মিশন বাঙালি সমাজের বিরাট অংশের কাছেই রাজনীতি–‌নিরপেক্ষ ভাবে শ্রদ্ধা ও গর্বের প্রতিষ্ঠান। সেখানে এসে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে আয়োজিত সভায় বিতর্কিত নাগরিকত্ব (‌সংশোধনী)‌ আইন নিয়ে বললেন, এবং বিরোধীদের বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী— এটা অনেকের কাছেই অকল্পনীয়। কেউ কেউ ইতস্তত মুখ খুলছেন, কেউ আড়াল রেখে ফুঁসছেন।
গৌতম রায় নামে মিশনের এক সদস্য সর্বভারতীয় একটি ইংরেজি দৈনিককে বলেন, ‘‌রামকৃষ্ণ মিশনের মতো কোনও অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকে বিতর্কিত বার্তা দেওয়া হচ্ছে, এটা খুবই বেদনার।’‌ গৌতম রায় জানান, তিনি দীক্ষা নিয়েছিলেন প্রয়াত স্বামী আত্মস্থানন্দের কাছ থেকে, ঘটনাচক্রে নরেন্দ্র মোদি যঁাকে তঁার শিক্ষক বলে উল্লেখ করেন। ‘‌দ্য হিন্দু’‌ কাগজকে গৌতমবাবু বলেন, ‘‌দুটি বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই। রামকৃষ্ণ মিশনে দীক্ষা দেওয়ার একটি বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া রয়েছে। মোদিকে কিন্তু এখানে দীক্ষা দেওয়া হয়নি। দ্বিতীয়ত, এখানে এসে রাজনৈতিক মন্তব্য করার কোনও অনুমতি নেই।’‌ গত কয়েক বছর ধরে মিশনের একটি অংশের আরএসএস–‌ঘনিষ্ঠতা নিয়েও অভিযোগ করেন গৌতমবাবু। এর আগেই মিশনের বেশ কয়েকজন প্রাক্তনী মিলে মিশন কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে চিঠিতে আর্জি জানিয়েছিলেন, মোদির এই বেলুড় মঠ সফর বাতিল করা হোক। 
মিশনের তরফে গতকালই জানানো হয়, রাজনীতির সঙ্গে রামকৃষ্ণ মিশনের কোনও সংস্রব নেই। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের ওপর মিশন কোনও মন্তব্য করবে না। ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top