যজ্ঞেশ্বর জানা, নন্দীগ্রাম, ১৩ সেপ্টেম্বর—১৭ বছরের এক নাবালিকার আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল নন্দীগ্রামের আমদাবাদে। বুধবার দুপুরে সবার অলক্ষ্যে নিজের ঘরের মধ্যে ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সোমা মাঝি নামের ওই নাবালিকা। ঘটনা জানাজানি হতে পরিবারের লোকেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় সোমাকে উদ্ধার করে স্থানীয় রেয়াপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যা‌য়। সেখানে সন্ধেয় মৃত্যু হয় তার। 
ঘটনার তদন্ত শুরু করতে নন্দীগ্রাম থানার পুলিস একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। থানার ওসি অজয় মিশ্র বলেন, ‘‌ঠিক কী কারণে ওই নাবালিকা আত্মঘাতী হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। আমরা পরিবারের লোকেদের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চালাচ্ছি।’‌ তবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, মেয়েটি অপমানে আত্মঘাতী হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে খেজুরির বজবজিয়াতে চোর সন্দেহে জনরোষের শিকার হয়েছিলেন সোমার বাবা শম্ভু মাজি। গণপিটুনিতে জখম শম্ভু বর্তমানে হেঁড়িয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিসের কাছে কোনও অভিযোগ না থাকা সত্বেও মাছের ভেড়িতে মাছ চুরি করতে গিয়ে শম্ভু আক্রান্ত হয়েছেন বলে গুজব ছড়িয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা নাড়ুগোপাল জানা বলেন, ‘‌চোরের মেয়ে অপবাদ ঘুচাতে নাবালিকা আত্মঘাতী হয়েছে। বাবার অপমান সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে সে।’‌ জানা গেছে, শম্ভু মাজির দুটো বিয়ে। সোমা দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর মেয়ে। প্রথম পক্ষের এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাননি পরিবারের লোকেরা। শম্ভুর প্রথম পক্ষের স্ত্রীর ছেলে বিশ্বজিৎ মাজি বলেন, ‘‌বাবাকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। হাসপাতাল থেকে বাবাকে দেখে আসার পর ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছিল বোন। খুব কষ্ট পেয়েছিল সে। দুপুরে আমরা হাসপাতালে খাবার নিয়ে চলে যাওয়ার পর বোন বাড়িতে একা ছিল। সেই সময়ই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top