সুখেন্দু আচার্য, হঁাসখালি, ১১ ফেব্রুয়ারি- কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের খুনে আরএসএস জড়িত বলে সরাসরি জানিয়ে দিলেন তৃণমূল সাংসদ তথা যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক ব্যানার্জি। তাঁর কথায়, ‘মূল অভিযুক্ত অভিজিৎ পুন্ডারি আরএসএসের সক্রিয় সদস্য বলে জানতে পেরেছি। সত্যজিৎ রাজনৈতিক ঈর্ষার বলি হয়েছেন। তাঁর হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত।’ 
তাঁর অভিযোগের তীর যে বিজেপি–র দিকে, তা–ও অভিষেকের বক্তব্যে স্পষ্ট। সোমবার কৃষ্ণগঞ্জে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘অভিজিতের মা তো বলেইছেন, ও বিজেপি করে। এখানকার পুলিশমন্ত্রীর নাম মমতা ব্যানার্জি। দোষীদের কলার ধরে  গ্রেপ্তার করে আনা হবে! তাদের জেলে যেতেই হবে। ওরা (‌বিজেপি)‌ সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিকল্পনা করে গণ্ডগোল তৈরি করছে। ঠাকুরনগরে প্রধানমন্ত্রী সভা করার ৪ থেকে ৭ দিনের মাথায় বিধায়ক খুন হয়েছেন। সীমান্ত পেরিয়ে বন্দুক আসছে। বন্ধ করতে পারছে না। আবার বড় বড় কথা বলছে! প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।’‌
এদিন সত্যজিৎ–হত্যা নিয়ে সংসদেও সরব হয় তৃণমূল। লোকসভায় অর্পিতা ঘোষের নেতৃত্বে ওয়েলে নেমে ‘মোদি সরকার হায় হায়’ স্লোগান দেন দলের সাংসদরা। সত্যজিতের হত্যার প্রতিবাদে এদিন বিকেল থেকে শিয়ালদহ–রানাঘাট শাখায় এবং দমদম ও কাঁচরাপাড়া স্টেশনে রেল অবরোধ করেন মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশ। তাঁদের সঙ্গে তৃণমূলের সমর্থকরাও ছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধও করা হয়।  
সোমবার নিহত সত্যজিতের বাড়ি গিয়ে প্রথমে তাঁর স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে কথা বলেন অভিষেক। বিভিন্ন বিষয়ে স্থানীয় নেতৃত্বের কাছে খোঁজ নেন। পরে তিনি বলেন, ‘‌আমরা ছাড়ব না। খুন করার উস্কানি দিয়ে কেউ যদি ভাবে, দিল্লিতে গিয়ে কারও পায়ে ঝুলে থাকলে ছাড় পেয়ে যাবে, তা হবে না।’  নাম না করলেও স্পষ্টতই তাঁর লক্ষ্য এক প্রাক্তন তৃণমূল নেতা, যিনি এখন বিজেপি–তে রয়েছেন। 
প্রসঙ্গত, সত্যজিৎ খুন হওয়ার পর বিজেপি–র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ দাবি করেছিলেন, এটা গোষ্ঠীকোন্দলের ঘটনা। এর সঙ্গে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ বিজেপি–র নাম জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অভিষেক পাল্টা বলেন, ‘‌এখানে কোনও গোষ্ঠীকোন্দল নেই। তৃণমূলের ‌দ্বিতীয় কোনও গোষ্ঠী নেই। থাকলে নাম বলুন! এখানে গণতন্ত্র আছে বলেই দিলীপবাবুরা বড়বড় কথা বলতে পারছেন। সভা–সমাবেশ করতে পারছেন। দিলীপবাবুরাই কয়েকদিন ধরে বলছিলেন, অনাথ করে দেব! গর্তে ঢুকিয়ে দেব! এই ঘটনা তারই প্রতিফলন।’‌
এদিনও কৃষ্ণগঞ্জে গিয়েছিলেন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তিনি এবং অভিষেকের বক্তব্য, সত্যজিৎ মতুয়া সম্প্রদায়ের বড় সংগঠক ছিলেন। সেজন্যই পরিকল্পনা করে তঁাকে সরিয়ে দেওয়া হল। জ্যোতিপ্রিয়ও ঘটনার জন্য বিজেপি–কে দায়ী করেছেন। এলাকার মানুষ জানান, সম্প্রতি সত্যজিৎ এলাকায় মতুয়াদের নিয়ে দু’টি বড় সভা করেছিলেন। তাতেই ভয় পেয়েছিল বিজেপি। কারণ, তারা প্রধানমন্ত্রীকে এনে মতুয়া ভোট টানার চেষ্টা শুরু করেছে।   
অভিষেক সরাসরিই বলেন, ‘তদন্ত হচ্ছে‌। মনে রাখবেন, কান টানলে মাথা আসবে। অভিজিৎ পুন্ডারি কে? তার বাড়ির লোকেরা বলছেন, সে আরএসএস করে। সে পালিয়ে গেছে। পালিয়ে গিয়ে রেহাই পাবে না সে। সত্যজিতের মৃত্যু আমাদের কাছে অপূরণীয় ক্ষতি। কথা দিচ্ছি, প্রতিটি ঘর থেকে সত্যজিৎ তৈরি করব!’‌

সত্যজিতের স্ত্রী, মা ও পরিজনদের সঙ্গে অভিষেক ব্যানার্জি। রয়েছেন গৌরীশঙ্কর দত্তও। ছবি:টুইটার

জনপ্রিয়

Back To Top