‌বিজয়প্রকাশ দাস, পূর্ব বর্ধমান: রাজ্যে সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের জন্য অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে মমতা ব্যানার্জির সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য আছে বলে জানালেন সংখ্যালঘু দপ্তরের চেয়ারম্যান আবু আয়েশ মণ্ডল। তঁার বক্তব্য, সংখ্যালঘু উন্নয়নের ক্ষেত্রে সারা দেশে প্রথম সারিতে রয়েছে বাংলা। সংখ্যালঘু উন্নয়নে এই রাজ্যেই েবশি কাজ হয়েছে। বুধবার বিডিএ সভাকক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের এক সভায় উপস্থিত ছিলেন তিনি। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক বিজয় ভারতী, সভাধিপতি শম্পা ধারা, পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। সংখ্যালঘু দপ্তরের চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত দু’বছর এই খাতে রাজ্য সরকারের টাকা দেওয়ায় কোনও ঘাটতি আমরা দেখতে পাইনি। তাই বিডিওদের কাছে জানতে চেয়েছি, সরকার টাকা দিচ্ছে, ডিএম টাকা দিচ্ছে, আপনারা সেই টাকা পাচ্ছেন। অথচ কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি কেন থাকছে?’ বিশেষ করে মন্তেশ্বর, কালনা ১ ও ২, রায়না ১ এবং মেমারি ১–এর কাজে কেন ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তা তিনি জানতে চান।
সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান আবু আয়েশ মণ্ডল বলেন, ‘‌সংখ্যালঘুদের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যে টাকা বরাদ্দ হয়, সেই টাকা দিয়ে দুঃস্থ ও সর্বহারা মহিলাদের জন্য ঘর তৈরি করা হয়। স্কুল বিল্ডিংয়ের সংযুক্ত ঘর তৈরি করা হয়। ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ দেওয়া হয়। হস্টেল তৈরি করা হয়। সংখ্যালঘুদের আর্থিক উন্নয়নের জন্য দেওয়া হয় শিক্ষা সংক্রান্ত ঋণ। সেল্ফ হেল্প গ্রুপের জন্যও টাকা দেওয়া হয়। তবে এই টাকাগুলি কীভাবে খরচ হচ্ছে, কত টাকা খরচ হল, কী অগ্রগতি হল, ব্লক ও সাবডিভিশনগুলির কাজ কতদূর এগোলো তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এছাড়া সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, আইন–শৃঙ্খলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেমন রয়েছে ইত্যাদি নিয়েও  কথা হয়েছে। পাশাপাশি সম্পত্তি থেকে আয় কত হচ্ছে, তা জানতে সরকার সমস্ত জেলায় একজন করে ইনস্পেক্টর নিয়োগ করেছেন। তঁারা সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে আমাদের রিপোর্ট দেন।’ তিনি আধিকারিকদের কাছে জানতে চান এই সব কাজ কতদূর এগোলো বা কী পরিস্থিতিতে আছে, সে কথাও। তঁাদের কাছ থেকে পাওয়া রিপোর্ট সরকারকে দেবেন বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রেও তঁাদের কোনও সমস্যা থাকলে আমাদের জানালে আমরা কমিশনে সে বিষয়ে সভা করি। তার পর সেই জেলায় কী দেখে এলাম, তা নিয়ে একটা রিপোর্ট তৈরি করে তার কপি আমরা রেখে সরকারের কাছে পাঠাই।’
তিনি আরও জানান, উন্নয়নের জন্য অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আছে রাজ্য সরকারের। কিন্তু সেগুলি নিচুস্তর পর্যন্ত কার্যকর করার ক্ষেত্রে কিছু জায়গায় ঘাটতি থাকছে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে গত দু’‌বছর সরকারের টাকা দেওয়ার কোনও ঘাটতি আমরা দেখতে পাইনি। তাই আমরা বিডিওদের কাছে জানতে চেয়েছি, সরকার টাকা দিচ্ছে, ডিএম টাকা দিচ্ছেন, আপনার টাকা পাচ্ছেন। অথচ সেই টাকা কার্যকর করার ক্ষেত্রে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি কেন থেকে যাচ্ছে? তঁারা কেউ কেউ এজন্য ভোটের কাজের কথা বলেছেন। তবে গোটা রাজ্যে সংখ্যালঘু উন্নয়নের কাজ যথেষ্ট ভাল হয়েছে বলে এদিন তিনি জানান।

জনপ্রিয়

Back To Top