যজ্ঞেশ্বর জানা, তমলুক, ৫ মার্চ- শহর ছাড়িয়ে আগেই গ্রামের উন্নয়নে হাত বাড়িয়েছিল হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদ। এবার একেবারে প্রান্তিক এলাকায়ও সেই উন্নয়নের কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করল পর্ষদ কর্তৃপক্ষ। অর্থাভাবে পঞ্চায়েত এবং জেলা পরিষদ যে উন্নয়ন করতে পারেনি, সেই কাজেই হাত লাগিয়েছে হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অনুপ্রেরণায় তাই পঞ্চায়েত ভোটের আগেই গ্রামীণ উন্নয়নে রীতিমতো উপুড়হস্ত হলেন হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তমলুক ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রাম রাজনগরে সোমবার শুভেন্দু আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা করলেন ২৪টি প্রকল্পের কাজ। দুই নন্দীগ্রাম, সুতাহাটা, মহিষাদল, নন্দকুমার, তমলুক, ময়না, শহিদ মাতঙ্গিনী এবং কোলাঘাট ব্লক এলাকার একাধিক পাকা রাস্তা, পঞ্চায়েত অফিস, ভূমি দপ্তর এবং কলেজের প্রাচীর নির্মাণ–সহ আরও একাধিক কাজ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এই ২৪টি প্রকল্পে। এই প্রকল্পগুলির জন্য উন্নয়ন পর্ষদ বরাদ্দ করেছে ৫৩ কোটি ৯১ লক্ষ টাকা। প্রকল্পগুলির কাজ শুরুর জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে ঠিকাদারকে ওয়ার্ক অর্ডারও দেওয়া হয়ে গেছে বলে এদিন জানান শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়াও ঘোষণা করেন উন্নয়ন সংক্রান্ত নানা পরিকল্পনাও। যার মধ্যে ৯টি প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে এবং আরও ২০টি প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করছে উন্নয়ন পর্ষদ।
আগে হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের উন্নয়নের কাজ সীমাবদ্ধ ছিল কেবল হলদিয়া মহকুমা এলাকার মধ্যে। ২০১৩ সালের পর হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের আওতায় চলে আসে তমলুক মহকুমাও। ফলে বিগত কয়েক বছর ধরেই পাঁশকুড়া থেকে নন্দীগ্রাম সর্বত্রই উন্নয়নের কাজ ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে পর্ষদ। গত বছর প্রায় ১২৫ কোটি টাকা খরচ করেছিল হলদিয়া পর্ষদ। এবার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১৫০ কোটির। এদিনের এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসে শুভেন্দু বলেন, ‘‌মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার মানুষের সরকার, কল্যাণের সরকার। এই সরকার মানুষের উন্নয়ন বোঝে। এই সরকার মানুষকে নিয়ে চলতে জানে। তাই প্রান্তিক এলাকা থেকেই উন্নয়ন চলছে। এই উন্নয়নকে বুথে বুথে, গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে দিতে হবে। মানুষকে সঙ্ঘবদ্ধ করতে হবে। আর মুখ্যমন্ত্রীর হাত শক্ত করতে হবে।’‌
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের অন্যতম সদস্য বিধায়ক সুকুমার দে, ফিরোজা বিবি, জেলা সভাধিপতি মধুরিমা মণ্ডল, উন্নয়ন পর্ষদের প্রশাসক উজ্জ্বল সেনগুপ্ত প্রমুখ।

তমলুকে মন্ত্রী শুভেন্দু। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top