আজকালের প্রতিবেদন‌: কোনও খারাপ কথাকে পাত্তা দিই না। আমি আদ্যন্ত সদর্থক মানসিকতার মানুষ। যে মানুষের যেরকম রুচি, তাঁরা সেরকম মন্তব্য করেন। ওঁদের কথায় মন দিলে সামনের এই বড় পরীক্ষায় পাশ করব কী করে—বললেন যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মিমি চক্রবর্তী। আর বসিরহাট কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নুসরত জাহানও জানালেন, এসব নেগেটিভ কথাকে মাথায় রাখতে চাই না। বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষরা এরকম করবেই। জীবনে বহুবার নানা পরিস্থিতিতে লড়াই করতে হয়েছে। এমনকী পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডেও আমার নাম জড়িয়ে অপপ্রচার করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল আমি কাদেরকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছি। কাদেরকে চিনি মানে আমি যে দোষী, তা তো নয়।
এই দুই অভিনেত্রী লোকসভা ভোটে প্রার্থী হওয়া থেকেই নানান সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের ঘিরে নানান কুরুচিকর মন্তব্য বা ছবি পোস্ট করা হচ্ছে। সে সম্পর্কেই সম্প্রতি এই প্রতিক্রিয়া মিমি আর নুসরতের। দুজনেই অবশ্য জানালেন, এটা যে বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে করা হচ্ছে তা হয়তো নয়। আসলে অনেক মানুষ আছেন যাঁদের কোনও কাজ নেই, অফুরন্ত সময়। তাঁরাই এইসব কাজে ব্যস্ত থাকেন। মিমির বক্তব্য, ‘‌আমার তো মাঝে মাঝে মজাই লাগে ওঁদের এইসব কাজে।’‌ নুসরত বললেন, ‘‌যাঁরা গণতন্ত্র নিয়ে এতটাই ভাবিত, এত বড় বড় কথা বলেন, তাঁরা কী করে মহিলাদের স্ট্যাটিসটিক্স নিয়ে এরকম নোংরা ছবি পোস্ট করেন, কুরুচিকর মন্তব্য করেন? ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যায় একজনের শরীরের সঙ্গে সুপার ইম্পোজ করা হয়েছে আমাদের মুখ।‌’‌ আর মিমি বললেন, ‘‌নারী তো একটা শক্তি। একমাত্র নারীরই ক্ষমতা আছে একটা নতুন প্রাণ সৃষ্টি করার। যাঁরা এই মন্তব্য করছেন, তাঁদের তো মা আছেন। তবে?‌’‌
মিমি আর নুসরত, দুজনেই এখন মনোনিবেশ করেছেন তাঁদের আগামী যুদ্ধে। ইতিমধ্যে কর্মিসভাও সেরে ফেলেছেন। দুজনেই জানেন গ্রামের রাস্তা আর পরিবেশ। দিনের পর দিন গ্রামে গিয়ে শুটিং করেছেন, শো করেছেন। কাজেই গরমে মাইলের পর মাইল হাঁটাকে একদমই ভয় পাচ্ছেন না। দুজনেই বললেন, ‌ভয় পাব কেন?‌ দিদি আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। তিনি জানেন কার ওপর আস্থা রাখতে হয়। তিনি জানেন দেশের কাজ করতে হলে সমাজের সব স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। বললেন, আমরা অভিনেত্রী। অন্যের হৃদয়কে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে হয় আমাদের। আর রাজনীতি করতে গেলেও মানুষের হৃদয়টা বোঝা জরুরি।
মিমি যেমন ছোটবেলা থেকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশ নিতে দেখেছেন, নুসরতের কিন্তু সেরকম অভিজ্ঞতা নেই। জানালেন, ‘‌রাজনীতি কোথায় নেই?‌ ঝান্ডা হাতে নেওয়া রাজনীতির অভিজ্ঞতা না থাকলেও বাড়িতে মা আর ঠাকুমার রাজনীতির লড়াই দেখেছি। কাজের ক্ষেত্রে রাজনীতি দেখেছি। কাজেই আমরা তৈরি। সঙ্গে আছে এত মানুষের আশীর্বাদ, দিদির আশীর্বাদ।‌’‌

 

নিউজ এইটটিন বাংলার স্টুডিওতে মিমি ও নুসরত

জনপ্রিয়

Back To Top