আজকালের প্রতিবেদন: ভিনরাজ্য থেকে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্যই জেলায় করোনা–আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ঠিক এক মাস আগে ২ মে মুর্শিদাবাদ জেলায় করোনা–আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ১। একমাস পর সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৬। মৃত্যু হয়েছে একজনের। আক্রান্তদের বেশিরভাগই মহারাষ্ট্র–ফেরত। 
পরিযায়ী শ্রমিকের আসা কমতে সংক্রমণও কমছে পূর্ব বর্ধমানে। এই কয়েক দিনে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে বীরভূমে। জেলায় কন্টেনমেন্ট জোন  ছিল ১০টি, একলাফে তা ৩০টি হয়ে গেছে। নদিয়াতেও মে মাসের ১২ তারিখ পর্যন্ত করোনা–আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯, হয়েছে ৮৪। এই ২১ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ৭৫। 
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যে আশঙ্কা করেছিলেন, বাস্তবে সেটিই ঘটে চলেছে। গুজরাট, চেন্নাই থেকে আসা শ্রমিকদের কাছ থেকে জেলাগুলিতে হু–হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। মুর্শিদাবাদের শ্রম দপ্তরের হিসেব, জেলার প্রায় আড়াই লাখ শ্রমিক ভিনরাজ্যে কাজ করতে যান। বাড়ি ফিরেছেন দেড় লাখের মতো। ১০ মে থেকে দফায় দফায় শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেন বহরমপুর ও ফরাক্কা স্টেশনে আসতে থাকে। বহরমপুরে এসেছে ৫টি ট্রেন। ফরাক্কায় ১৪টি।  জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রশান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘‌মূলত মহারাষ্ট্র–ফেরত শ্রমিকদের মধ্যে আক্রান্ত বেশি। তবে গোষ্ঠী সংক্রমণ নয়। বরং সুস্থ হচ্ছে বেশি। প্রতিনিয়ত পরীক্ষা করা হচ্ছে। আমরা সতর্ক।’‌ ‌
পরিযায়ী শ্রমিকেরা ফিরতেই নদিয়ায় করোনা–আক্রান্তের সংখ্যা তীব্রগতিতে বাড়ছে। মার্চ মাস থেকে নদিয়ায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যাটা নিয়ন্ত্রণেই ছিল। তারপর থেকেই বেড়েছে হু–হু করে। মঙ্গলবার দাঁড়িয়েছে ৮৪। এর থেকে পরিষ্কার, পরিযায়ী শ্রমিকেরা নদিয়ায় ফিরতেই সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এদিকে, মঙ্গলবার মহারাষ্ট্র থেকে নদিয়ার তেহট্টে কোয়ারেন্টিন সেন্টারে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে আসা এক বাসচালকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে দেওয়ার আগে তাঁর লালারস পরীক্ষার দাবি করেন স্থানীয়রা। মৃত রমেশ সোনারের (৩৭) বাড়ি মহারাষ্ট্রের ধুলিয়া জেলার কুসুম্বা গ্রামে। পুলিশের অনুমান, মদ্যপান করে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন। 
ভিনরাজ্য থেকে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে করোনা–আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বীরভূমে কন্টেনমেন্ট জোনের সংখ্যা ৩০টি বেড়ে গেল। ছিল ১০টি, আরও ৩০টি এলাকা মঙ্গলবার থেকে  জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্টেনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এদিকে, মঙ্গলবার থেকে সিউড়ি সুপারস্পেশ্যালিটি হাসপাতালে চালু হল করোনা পরীক্ষার নতুন ল্যাবরেটরি। বীরভূমে নতুন করে ৩০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন সোমবার।সকলেই ভিনরাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিক। মঙ্গলবার নতুন করে আরও ৭ জনের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এঁরাও ভিনরাজ্য থেকে এসেছেন। 
এদিকে, সোমবার রাতে গুজরাট থেকে আসা আরও একটি ট্রেনে বাঁকুড়ায় এলেন জেলার ১৯৪ জন পরিযায়ী শ্রমিক। 
তথ্যসূত্র:‌ প্রদীপ দে, অমিতকুমার ঘোষ, অমিতাভ বিশ্বাস, অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ও আলোক সেন‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top