Avro Keyboard: ‘ভাষার জন্য টাকা নেব কেন!’ ভাষা দিবসে কুর্নিশ এক ‘সেরা’ বাঙালিকে   

কৃশানু ঘোষ: এই যে প্রতিবেদনটা লিখছি, সেটা বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার অভ্র কি-বোর্ডের মাধ্যমে।

আমার মতোই দুই পারের কোটি কোটি বাঙালি এখন ডিজিটাল মাধ্যমে মাতৃভাষায় লিখতে পছন্দ করেন। এককালে কোনও উপায় ছিল না, ফেসবুকে ‘আমি ভাত খাই’ লিখতে গেলে লিখতে হত ‘ami bhat khai’। বাংলাদেশের ঢাকা শহরের কোনও এক মেহদি হাসান খানের দৌলতে এখন কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্মার্টফোনে বাংলা হরফে লেখা জলভাত। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় বাংলা ভাষাকে ভালবেসে, তাকে রক্ষা করতে কত বাঙালি ভাই শহিদ হয়েছিলেন। মাত্র ৩৫ বছরের মেহদির অবদানকেও খুব একটা পেছনে রাখতে পারছি না।
কী এমন করেছেন মেহদি? কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে একটা বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার তৈরি করেছেন যা ‘ইউনিকোড’ অর্থাৎ যে কোনও ডিজিটাল মাধ্যমে কার্যকর। এর নাম ‘অভ্র কিবোর্ড’। অভ্রর আগে বাংলা সফটওয়্যার কি ছিল না? নিশ্চয়ই ছিল। কিন্তু তা যেমন জটিল তেমনই ফেসবুক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে চলত না। মেহদির মস্তিষ্কের জোরে এখন বাংলা কথা বাংলায় লিখতে পারছি আমরা। কীভাবে, কী প্রযুক্তি দিয়ে তিনি এমন জিনিস আবিষ্কার করলেন সেসব টেকনিক্যাল বিষয়ে যাব না। তা দিয়ে প্রমাণ করা যাবে না, মেহদির ‘সেরা বাঙালি’ হওয়ার তত্ত্ব। অভ্র ইনস্টল করার পর অ্যাপলিকেশনটি ওপেন করলে যে ছবির সঙ্গে ক্যাপশন আসে তা হল ‘ভাষা হোক উন্মুক্ত’। স্রেফ বিজ্ঞাপনের কায়দাবাজি নয়, সত্যিই বাংলা ভাষাকে খোলা আকাশে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন মেহদি। 

 

 

আরও পড়ুন: আকাদেমি চত্বরে সাড়ম্বরে পালিত হল ২৪তম বাংলা ভাষা উৎসব 


১৯৮৬ সালের ২৩ জুলাই জন্ম মেহদি হাসান খানের। বরাবরের মেধাবী ছাত্র স্কুলের পাঠ শেষ করে ডাক্তারি পড়তে ভর্তি হলেন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে। পড়ছেন ডাক্তারি অথচ মন পড়ে রয়েছে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে। যে কোনও মাধ্যমে সহজে লেখা যায় এমন বাংলা সফটওয়্যার বানানোর নেশা পেয়ে বসে তাঁকে। সিলেবাসের পড়া বাদ দিয়ে তাঁর দুই চোখ সারাক্ষণ কম্পিউটার স্ক্রিনে। অবশেষে জন্ম নিল মেহদির ‘ব্রেনচাইল্ড’ অভ্র। সেই সঙ্গে জন্ম নিল প্রচুর অর্থাগমের সম্ভাবনা। ঠিক এই জায়গাতেই সাধারণ বাঙালি থেকে, কৃতী বাঙালি থেকে ‘সেরা’ বাঙালি হয়ে উঠলেন মেহদি। এমন ব্যবস্থা করলেন, যাতে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের যে কেউ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারেন তাঁর সফটওয়্যার। এ বিষয়ে তরুণ মেহদি বলেছিলেন, ‘ভাষার জন্য টাকা নেব কেন?’ এই সহজ অথচ কঠিন সিদ্ধান্তের জোরেই আজ বাংলা ভাষা অন্তত ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তির স্বাদ পেয়েছে।                 

আকর্ষণীয় খবর