বিভাস ভট্টাচার্য: দক্ষিণবঙ্গের পর এবার উত্তরবঙ্গের সংশোধনাগারে ওষধি গাছের চাষ শুরু হতে চলেছে। অ্যালোভেরা গাছের চাষ করা হবে। আবাসিকরা চাষ করবেন। চাষের জন্য তঁাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কাজের জন্য তঁারা পারিশ্রমিকও পাবেন। কারা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি সংশোধনাগারে এই চাষ করা হবে। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীন আয়ুষ বিভাগের সহযোগিতায় এই চাষ হচ্ছে। আগামী বছরের গোড়ার দিকে উত্তরবঙ্গের সংশোধনাগারগুলিতে এই চাষ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন এক কারা আধিকারিক। 
রাজ্যে ক্রমশই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা। এর জন্য বাড়ছে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় গাছের চাষ। জ্বর বা কাশি সারাতে তুলসীর গুণ দেখে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার–সহ নানা জায়গায় এখন এই গাছের চাষ করা হচ্ছে। আয়ুর্বেদ মতে মশাবাহিত রোগের চিকিৎসাতেও কাজে লাগে তুলসী। অল্প টাকার বিনিময়ে এই চিকিৎসার সুফল পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। চিকিৎসা ছাড়াও প্রসাধনের কাজে লাগে অ্যালোভেরা। যার জন্য অ্যালোভেরা চাষও উত্তরবঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
এ বছরের অক্টোবর মাসে মেদিনীপুর সংশোধনাগারে এই চাষ শুরু হয়। দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তুলসীর পাশাপাশি কালমেঘ গাছের চাষ শুরু করা হয়েছে সেখানে। যা আবাসিকরা অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গেই করছেন। 
সংশোধনাগারে ওষধি গাছের চাষ প্রসঙ্গে ওই কারা আধিকারিক জানিয়েছেন, সংশোধনাগারের ভেতর অনেক ফঁাকা জমি পড়ে ছিল। যেগুলো কোনও কাজে লাগত না। চাষের জন্য ওই জমিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। কাজের মধ্যে থেকে আবাসিকরাও তঁাদের একাকিত্ব কাটানোর পাশাপাশি পারিশ্রমিক হিসেবে অর্থ রোজগারও করতে পারছেন। সম্পূর্ণ এই নতুন বিষয়টি নিয়ে তঁারাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সাজাপ্রাপ্ত আবাসিকরাই এই কাজ করছেন। উত্তরবঙ্গেও সাজাপ্রাপ্তদের কাজে লাগানো হবে। যেহেতু আয়ুর্বেদ চিকিৎসা রাজ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ফলে এই চাষ যত ছড়িয়ে পড়বে ওষধি গাছের সংখ্যাও তত বাড়বে। ইতিমধ্যেই মেদিনীপুর সংশোধনাগারে গাছ বড় হয়ে উঠেছে। আয়ুষের পাশাপাশি একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও এই চাষের জন্য তঁাদের সহযোগিতা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। 
এ বিষয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট মেডিসিনাল প্ল্যান্টস বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাঃ নির্মল মাজি বলেন, ‘প্রাচীনকাল থেকেই ভারত–সহ গোটা পৃথিবীতে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা চালু আছে। ‌এই মুহূর্তে ব্যয়বহুল অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার পাশাপাশি কম টাকায় এই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা সব জায়গাতেই ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সাধারণ রোগ ছাড়াও বিভিন্ন জটিল রোগের উপশম হচ্ছে। এই রাজ্যের মানুষও এই চিকিৎসা পেয়ে অত্যন্ত উপকৃত হচ্ছেন। যার পুরো কৃতিত্বটাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির। তঁার স্বপ্নকে সফল করতে রাজ্যে আমাদের কয়েকশো একর জমিতে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার প্রয়োজনে গাছের চাষ হচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গের পর আমরা এবার উত্তরবঙ্গের সংশোধনাগারেও ওষধি গাছের চাষ শুরু করছি। উত্তরবঙ্গে মূলত অ্যালোভেরা চাষই হবে। আগামিদিনে রাজ্যের সমস্ত সংশোধনাগারেই ওষধি গাছের চাষ শুরুর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top