শ্রাবণী গুপ্ত:‌ বিডি ৫১
বিধাননগর
 গত কয়েকদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রে সাদা রঙের এই বাড়ি। ঘন ঘন নানা রঙের স্কর্পিও এসে দাঁড়িয়েছে এই বাড়ির গেটে। হন্তদন্ত হয়ে ভেতরে ঢুকে গেছেন বহু চেনা মুখ। দু’‌–এক বার অতিথিদের বিদায় জানাতে বাড়ির মালিক এসেছেন বাইরে।  বিষয়টা যত রহস্যময় মনে হচ্ছে আসলে ততটাও নয়। এই বাড়ির মালিকের নাম মুকুল রায়। আজই সপুত্র তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরলেন।
মতের অমিল হচ্ছিল ভোট পর্ব থেকেই। সূত্রের খবর, ২০১৯ লোকসভার উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পরেও ২১–এর গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রচার সহ সব দায়িত্ব বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মুকুলের হাত থেকে নিয়ে নেয়। অতিরিক্ত গুরুত্ব পেতে থাকেন শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী প্রায় জোর করেই নাকি এই ভোটে প্রার্থী করা হয় মুকুলকে। শারীরিক কারণেই রাজি ছিলেন না মুকুল রায়। অভিযোগ, তাঁর আপত্তিতে পাত্তা দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, সূত্রের খবর ভোটের ফল প্রকাশের পরে মুকুল ও কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র বিরুদ্ধে টিকিট বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন বিজেপির কিছু নেতা। 
মুকুলের আশা ছিল বিরোধী দলনেতার পদ। সেটাও দেওয়া হল না। ক্রমশ নিজেকে ঘরবন্দি করে নিয়েছিলেন এই নেতা। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুকুলের স্ত্রীকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়ার পর কিছুটা নড়েচড়ে বসে গেরুয়া শিবির। কিন্তু মুকুল ঘনিষ্ঠ নেতারা বলছেন, বল তখন পয়েন্ট অফ নো রিটার্নে পৌঁছে গেছে। রাজীব ব্যানার্জি, সব্যসাচী দত্ত, শীলভদ্র দত্ত থেকে অধুনা বিজেপি–তে সাংসদ এমন অনেকেই তখন মুকুলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এরা প্রত্যেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরতে চান।
এর পরেই দিল্লি গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। খবর ছিল, গত ৯ তারিখ ফলহারিণী কালীপুজোর দিন তৃণমূলে যোগ দেবেন মুকুল। কিন্তু তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল বলছে,  শেষ প্রত্যাশা ছিল বিজেপির রাজ্য সভাপতির পদ।
           সূত্রের খবর, শুভেন্দু অধিকারী দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আবেদন করেছিলেন, যাতে  রাজ্যে বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে মুকুল রায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। শুভেন্দুর যুক্তি ছিল, সেক্ষেত্রে আগামী পুরসভা ও পঞ্চায়েত  নির্বাচনে মুকুলের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারবে  বিজেপি। কিন্তু বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাতে নারাজ। এমনকী সূত্র এও বলছে, এই কারণেই রাজনৈতিক মহলে ‘‌মুকুলের লোক’‌ বলে পরিচিত সৌমিত্র খাঁ ও নিশীথ প্রামাণিক এই সময় দিল্লিতেই ছিলেন। শুধু তাই নয়, দিল্লি যাওয়ার আগে এই বার্তা আদান প্রদানের জন্যই সৌমিত্র মুকুল রায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এমনটাও বলছে ওয়াকিবহাল মহল। 
এদিকে তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে,  বড় দল নিয়ে এখনই নয়। আপাতত মুকুল রায়। আর এই মুহূর্তে তৃণমূলের রাজনৈতিকভাবে যে অবস্থান, সেখানে ভোটে হেরে যাওয়া দলত্যাগীদের দলে ফেরাতে চায় না নেতৃত্ব। রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগও। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় যতই বিক্ষোভ উগরে দিন না কেন, রাজীব ব্যানার্জি, সব্যসাচী দত্তদের ক্ষেত্রে অনীহা রয়েছে জোড়াফুল শিবিরে। "না" এর তালিকায় নাম রয়েছে অমল আচার্য, বাচ্চু হাঁসদা, শ্যামাপদ মুখার্জি, বৈশালি ডালমিয়া, প্রবীর  ঘোষালেরও। সূত্রের খবর, অর্জুন সিং ফিরতে চান না এখনই। তবে তৃণমূল থেকে যাওয়া দুই বর্তমান সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক ও সৌমিত্র খাঁ এবং প্রাক্তন সাংসদ অনুপম হাজরা তৃণমূলে ফিরতে আগ্রহী। যা এখনও মমতা ও অভিষেকের বিচারাধীন। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের অনেক নেতাই বলতে শুরু করেছেন, বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৭৪–এ নামল। আগামীদিন ৩৪ এর নিচে নামলে "বিরোধী দলনেতা"  পদটাই থাকবে না। যদিও মুকুল রায়ের দল বদল প্রশ্নে এখনও নীরব রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে গেরুয়া অন্দরে আদি ও নব্য ঘিরে ভোটের আগেই যে বিরোধ শুরু হয়েছিল, আপাতত তা সামাল দিতে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে রাজ্য নেতাদের।

জনপ্রিয়

Back To Top