চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়,মঙ্গলকোট: ভোটের বাজারে ভালই বিকিয়েছে নকুলদানা। আগের ভোটে যেমন বিকিয়েছিল বাতাসা। সৌজন্যে বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। মঙ্গলকোটের জালপাড়ার বাসিন্দা শ্যামল বালো, মনমোহিনী বালোরা তিন পুরুষ ধরে নকুলদানা, বাতাসা তৈরি করেন। তাতে অবশ্য সংসার চালানোই দায়। তঁারা চাইছেন, শুধু ভোট মরশুমেই নয়, বছরভর বিকোক বাতাসা–নকুলদানা। তাতে সংসারে হাসি ফোটে। 
কারিগরদের সংসারে হাসি ফোটাতে অবশ্য ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও শিল্প পর্ষদ। সরকারিভাবে বাতাসা–কদমা–নকুলদানা তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। কালনায় তৈরি হয়েছে ক্লাস্টার। ২০ জন কারিগর এক জায়গায় হলেই সরকার প্রশিক্ষণ দেবে। এমনকী যন্ত্রও দেবে। গ্রাম থেকে শুরু করে শহর বা শহরতলির বাজারের চাহিদার কথা ভেবেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানালেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। 
এমনিতে বাতাসা বা কদমার বাজার মোটামুটি থাকলেও নকুলদানার তেমন বাজার নেই। বাড়িতে ঠাকুরকে রোজ পুজোর জন্য অনেকে নকুলদানা দেন। মিষ্টান্ন কুলের একেবারে পেছনের সারিতে মুখ লুকিয়ে থাকা নকুলদানা হট ফেভারিট হয়ে উঠেছে এবারের ভোট–নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই। অনুব্রতবাবু যেখানেই ভোট প্রচারে গিয়েছেন, নকুলদানা তত্ত্ব খাড়া করেছেন। আর তাতেই ভিড় বেড়েছে নকুলদানার কারিগরদের বাড়িতে, দোকানে সর্বত্রই। ভোটের দিনেও বিভিন্ন বুথে তৃণমূল কর্মীরা ভোটার থেকে শুরু করে ভোটকর্মী, পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য নকুলদানা–জলের বন্দোবস্ত করেন। কিন্তু ভোট ফুরোতেই নকুলদানার বাজারে ভাটার টান।
বাড়িতে নকুলদানার পাক দিতে দিতে চারজনের সংসার ঠেলা মনমোহিনীদেবী বলছিলেন, ‘৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি। কুইন্টাল প্রতি লাভ হয় সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা। এতে সংসার চলে, বলুন?’ নকুলদানার আর এক কারিগর গোবিন্দ ব্যাপারি বলছিলেন, ‘মুশকিল হচ্ছে, এখন বাতাসা–নকুলদানারও কারখানা গজিয়ে যাচ্ছে। ফলে মার খাচ্ছেন, যঁারা বাড়িতে বসে অল্পস্বল্প তৈরি করছেন, তঁারা। এই ছোট ছোট কারিগরদের পাশে দঁাড়াক সরকার।’ তবে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে শুনে খুশি মফস্‌সলের নকুলদানা তৈরি করে সংসার চালানো বাসিন্দারা অনুব্রত মণ্ডলকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। বলছেন, ‘তিনিই তো নকুলদানাকে প্রচারের আলোয় আনলেন।’

নকুলদানা নিয়ে মঙ্গলকোটের মনমোহিনী বালো। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top