মিল্টন সেন, হুগলি: ঝড় থেমে গিয়েছে, কিন্তু থামেনি মৃত্যুমিছিল। শুক্রবার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক প্রৌঢ়ের মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় বৈদ্যবাটির চক এলাকায়। মৃতের নাম গণেশ ঘোষ (৫০), বাড়ি গোবিন্দনগর এলাকায়। এ নিয়ে আমফানে জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫। এর মধ্যে শুধু বিদ্যুৎস্পর্শে মৃত ৩। বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে নিখোঁজ ছিলেন গণেশবাবু। ঝড়ের দাপটে বুধবার রাতে বৈদ্যবাটি চক এলাকায় ভেঙে পড়ে একটি বড় রাবার গাছ। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে তার জড়িয়ে যায় গাছে। বৃহস্পতিবার দিনভর ভাঙা গাছ রাস্তায় পড়ে থাকে। সরানোর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অভিযোগ, সেই অবস্থাতেই বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে দেয় বিদ্যুৎ সংস্থা। গোবিন্দনগরের বাসিন্দা গণেশ ঘোষ রাত ৯টা নাগাদ মিষ্টি কিনতে গিয়েছিলেন চক এলাকায়। ভেঙে পড়া গাছের ফাঁক দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বিদ্যুৎপৃষ্ট হন তিনি। শুক্রবার সকালে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনও সর্তকতা অবলম্বন না করে আচমকা বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।
এদিকে, আমফানের তাণ্ডবে হুগলি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন। শুরু হয়েছে পানীয় জলের সমস্যা। তার ছিঁড়ে বন্ধ হয়েছে টেলি–যোগাযোগ ব্যবস্থা। একইসঙ্গে নাজেহাল অবস্থা মোবাইল এবং ইন্টারনেট পরিষেবারও। বুধবার সন্ধে থেকে বন্ধ কেব্‌ল পরিষেবা। কারণ বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক না হলে এ সব সমস্যা কোনওভাবেই স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না। বেশিরভাগ এলাকাতেই দেখা গেছে বিদ্যুতের খুঁটির ওপর উপড়ে পড়েছে বড় গাছ। বিদ্যুতের পাশাপাশি ছিঁড়েছে ফাইবার অপটিক কেব্‌ল। রাস্তার ওপর ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার। বড় বড় গাছ কেটে সরিয়ে, কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ চালু করা হয়েছে। হাইটেনশনের টাওয়ার সোজা করা বা রাস্তায় ভেঙে পড়া ট্রান্সফর্মার ঠিক জায়গায় বসাতে সময় লাগছে অনেকটাই। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে এখনও বেশ কিছুদিন লাগবে।‌         ছবি:‌ পার্থ রাহা‌

জনপ্রিয়

Back To Top