গৌতম মণ্ডল, মগরাহাট: স্রেফ গুজব ও সন্দেহের বশে নৃশংসভাবে পিটিয়ে মারা হল এক যুবক ও এক মহিলাকে। শিশুচোর, দুষ্কৃতীরা হানা দিচ্ছে গ্রামে। ফলতা, ডায়মন্ড হারবার, নোদাখালি, মগরাহাট, কুলপি থেকে কুলতলির পাড়ায় পাড়ায় কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, ছেলেধরা, চোর থেকে নারী নির্যাতনের জন্য নাকি একদল যুবক ঘুরে বেড়াচ্ছে গ্রামে গ্রামে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে মারধরের কিছু ছবি। কয়েক দিনে দ্রুত ডালপালা মেলে ছড়িয়ে পড়েছে এই গুজব। পুলিশ–প্রশাসনও গুজব বন্ধ করতে প্রচারে নেমেছে। 
রবিবার সকালে প্রথম ঘটনাটি ঘটে মগরাহাটের মুল্টির সুধিবেড়িয়াতে। এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবককে শিশুচোর সন্দেহে ধরে এলাকার মানুষ। তার পর ফাঁকা মাঠে নিয়ে গিয়ে চলে গণপিটুনি। কয়েক‌শো মানুষ জড়ো হয়ে এলোপাথাড়ি কিল, লাথি মারতে থাকে। এমনকী অচেতন অবস্থায় যুবককে ইট, ঢিল দিয়ে মারা হয় বলে অভিযোগ। মারের চোটে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ওই যুবক। পরে মগরহাট থানার পুলিশ গিয়ে দেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। সন্ধে পর্যন্ত নিহত যুবকের কোনও পরিচয় মেলেনি। চুরির কোনও প্রমাণও পায়নি পুলিশ। এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন, টহল দিচ্ছে পুলিশ ও র‌্যাফ। এদিকে, এদিনই মগরাহাটের এক গ্রামে চোর সন্দেহে এক মাঝবয়সী মহিলাকে মারধর করা হয়। পুলিশ জখম মহিলাকে উদ্ধার করে ডায়মন্ড হারবার হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে হাসপাতালে ওই অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার মৃত্যু হয়। মগরাহাটেই গণপিটুনির ঘটনায় জখম আরও ৩ জন। রবিবার সন্ধে পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫ জনকে। শুক্রবার ফলতা ও ডায়মন্ড হারবারে গুজবের জেরে ২ ভবঘুরেকে গণপিটুনির হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশকর্মীরা। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। ডায়মন্ড হারবারের মহকুমা শাসক দেবময় চট্টোপাধ্যায় বলেন,‌ ‘‌গুজব বন্ধ করতে প্রশাসন সতর্ক। প্রতিটি থানা এলাকায় মাইক দিয়ে প্রচার চলছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক চলছে।’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top