দু’‌বার দু’‌ রকম ডেথ সার্টিফিকেট!‌ নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে অভিযোগ বোলপুরে

সুরজিৎ ঘোষ হাজরা:‌ করোনা চিকিৎসা করাতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পাহাড় প্রমাণ বিলের কারণে ঋণ নেওয়া থেকে শুরু করে ফ্ল্যাট–গয়না বিক্রি করার ঘটনা সামনে এসেছে। এবার একই ব্যক্তির দুটো ডেথ সার্টিফিকেট ও চিকিৎসার নামে টাকা লুঠের অভিযোগ উঠল বোলপুরের এক বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে। 
বোলপুরের একটি বেসরকারি নার্সিং হোম রামকৃষ্ণ মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে টাকা আদায়ের ও একই ব্যক্তির দু’‌বার দুরকম ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগ উঠল। পাশাপাশি এই নার্সিংহোম স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিচ্ছে না, এমনটাই অভিযোগ তুললেন বোলপুরের এক বাসিন্দা।
বোলপুরের নিচুপটির বাসিন্দা সৈকত ঘোষ অভিযোগ করেন, যে তাঁর বাবা শম্ভুনাথ ঘোষকে (‌৮০)‌ গত ২৮ মে বোলপুরের ওই বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর বাবা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে হাসপাতালের তরফে জানানো হয়। তারপর চিকিৎসা চলাকালীন দু’‌দিন পর তাঁকে  ফোন করে বলা হয়, পরপর দু’‌বার হৃদরোগের কারণে তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে।
তাঁর অভিযোগ, করোনার চিকিৎসা হচ্ছে বলে তাকে জানানো হয়। কিন্তু তাঁকে দেওয়া ডেথ সার্টিফিকেটে কোথাও কোভিডকে কারণ বলে উল্লেখ করা হয়নি। পরে এই নিয়ে বিভিন্ন মহলে খোঁজ খবর করেন তিনি। তখন তাঁর হাতে কোভিড কারণ লিখে অন্য এক ডেথ সার্টিফিকেট ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। 
পাশাপাশি ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনও রকম চিকিৎসা না করেই বিশাল অঙ্কের টাকা বিল করেছেন। বিভিন্ন খাতে সেই সকল টাকা ধরা হয়েছে। যেগুলির মধ্যে রয়েছে ডাক্তারের ভিজিট, ভেন্টিলেশনের খরচ ইত্যাদি। কিন্তু কোনওভাবেই রোগীকে ভেন্টিলেশনে দেওয়ার মতো অবস্থা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি চিকিৎসকেরা রোগীদের সশরীরে এসে দেখননি, তাঁরা কেবল ভার্চুয়ালি চিকিৎসা করেছেন বলেই নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানিয়েছেন। যদিও ডাক্তারের ভিজিটের চার্জ নেওয়া হয়েছে। 
অন্যদিকে ওই নার্সিংহোমে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের কার্ড গ্রহণ করা হয়নি। আর এই সকল অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই ব্যক্তি বীরভূম জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে একটি মেল মারফত অভিযোগ জানিয়েছেন।
 যদিও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য দপ্তর কী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, তা জানা যায়নি।