সমীর দে, ঢাকা: মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ইদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
শুভেচ্ছা বার্তায় মমতা বলেন,‘‌শ্রদ্ধেয়া শেখ হাসিনাজি, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আপনাকে, আপনার পরিবারকে এবং আপনার মাধ্যমে সকল বাংলাদেশিকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’‌
ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গেও এই উৎসব যথোপযুক্ত মর্যাদায় পালিত হচ্ছে বলেও শুভেচ্ছা বার্তায় জানিয়েছেন তিনি।
মমতা বলেন,‘‌ভৌগোলিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ ভিন্ন হলেও আমরা পরস্পরের একান্ত আপন। দুই বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতি এক হওয়ায় আমরা একে–‌অপরে বিভিন্ন উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে থাকি।”
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের ‘শ্রী বৃদ্ধি’‌–‌র হওয়ার প্রত্যাশাও ছিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর ‍শুভেচ্ছা বার্তায়।
করোনা–‌বন্যার মধ্যে ইদুল আযহা পালিত হয়েছে বাংলাদেশে। তবে মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা ছিল না। ছিল না, কোলাকুলি। দূর থেকে হয়েছে ভাবের আদান–‌প্রদান। করোনার কারণে এবারও জাতীয় ইদগাহে ইদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। মসজিদগুলোতেই সবাই নামাজ আদায় করেছেন। জাতীয় মসজিদে ঢোকার আগে আগতদের মাস্ক চেক করে গেটে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা। নামাজের জন্য মুসল্লিদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফাঁকা ফাঁকা হয়ে বসতে দেখা যায়। প্রত্যেকেই নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসেন। তবে শিশু ও বৃদ্ধ–‌সহ অসুস্থ ব্যক্তি বা অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা জামাতে অংশ নেননি।
রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বঙ্গভবনে ইদের নামাজ আদায় করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদুল আযহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে সবাইকে বৈষম্যহীন, সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। 
করোনার কারণে মানুষের সামর্থ্য কমে গেছে। ফলে এবার খুব একটা কোরবানি হবে না, এমনটাই ধারণা করেছিলেন সবাই। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এই ধারণা পাল্টে যায়। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই রাজধানীর পশুহাটগুলোতে কোরবানির পশুর সঙ্কট দেখা দেয়। অনেকেই শেষ পর্যন্ত পশু কিনতে পারেননি। গরু না পেয়ে খাসি কিনতে বাধ্য হয়েছেন অনেকে। 
আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বাস্থ্য সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আগেই ছুটি বাতিল করা হয়। ফলে তারা কর্মস্থলে থেকেছেন। কোভিড পরিস্থিতির কারণে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অধিকাংশই হাসপাতালে ডিউটিতেই ছিলেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার গার্মেন্টস শ্রমিকদের ইদে কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে গার্মেন্টস কর্মীরা ইদ করতে বাড়ি যাননি। 
কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নেমেছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের জন্য সাড়ে ৭০০ যানবাহন ব্যবহার করছে তারা। সেই সঙ্গে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বর্জ্য অপসারণে সাড়ে ১৭ হাজার কর্মী কাজ করছেন। এবার প্রায় ১০ হাজার টন বর্জ্য হবে। 

জনপ্রিয়

Back To Top