আজকালের প্রতিবেদন: ‘‌পশ্চিমবঙ্গের ভাল দিকগুলি তুলে ধরুন অন্য রাজ্যে গিয়ে।’‌ বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের কাছে এই আবেদন করে মমতা মঙ্গলবার আরও বলেছেন, ‘‌আমার আবেদন আপনাদের কাছে, অন্য রাজ্যে যখন যান, বাংলা কতটা এগিয়েছে তা বলুন সবার কাছে। একদল বদনাম করছে আমাদের রাজ্যের। অপপ্রচার করছে। সবাইকে বলুন, আগে কী ছিল এই রাজ্য। আর এখন কী হয়েছে।’‌
এদিন মহানগরীর মুকুটে আরও একটি নতুন পালক জুড়ে দিল আইটিসি সংস্থা। স্থাপত্য ও আধুনিকতার মিশেলে তৈরি নতুন ‘‌আইটিসি রয়্যাল বেঙ্গল’‌ হোটেলের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শুরুতেই আইটিসি–‌র চেয়ারম্যান সঞ্জীব পুরি তাঁর ভাষণে জানান, ‘‌সিটি অফ জয়’‌ কলকাতাকে নতুন এই হোটেল উৎসর্গ করা হল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখার্জি, সাধন পান্ডে, সৌগত রায়, জাভেদ খান, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, শুভাপ্রসন্ন–‌সহ বহু শিল্পপতি ও বিশিষ্টরা। উত্তরীয় পরিয়ে মমতাকে স্বাগত জানান সংস্থার পক্ষে সঞ্জীব পুরি। পরে তিনি বলেন, ‘‌শতাব্দী জুড়ে আমাদের সংস্থা পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দূরদৃষ্টি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা আমাদের কর্মক্ষেত্রে সাহায্য করেছে।’‌ পশ্চিমবঙ্গের পরিকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা বাণিজ্য প্রসারেও সহায়ক বলে মনে করেন তিনি। সঞ্জীব পুরি জানিয়েছেন, ‌ইতিমধ্যে ৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। আরও ১৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বিনিয়োগ হচ্ছে। রাজ্যে ১২টি জেলার ৫০০টি গ্রাম ও ১ লক্ষ ৩৫ হাজার কৃষককে যুক্ত করেছে আইটিসি সংস্থা। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে ইতিমধ্যে পাঁচলা ও হাওড়ার কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। সংস্থা সূত্রে জানানো হয়েছে, পূর্ব কলকাতার বাইপাসের ধারে ১৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে ‘‌আইটিসি রয়্যাল বেঙ্গল’‌ হোটেল। এর পাশেই রয়েছে ‘‌আইটিসি সোনার’‌ হোটেলটি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও আইটিসি–‌র এইসব বাণিজ্যভিত্তিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তাঁর কথায়, ‘‌আমাদের নিজের সংস্থা বলেই মনে করি আইটিসি–কে। কোনও পার্থক্য দেখি না। মনে পড়ছে সদ্য প্রয়াত দেবেশ্বরজির কথা। উনি আমাদের রাজ্যের অভিভাবকের মতো ছিলেন। আর হোটেলের নামটিও খুব সুন্দর হয়েছে। সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল বাঘের কথা মনে পড়ছে।’‌ মুখ্যমন্ত্রীর মতে, আইটিসি–‌র নতুন এই হোটেল শুধু কলকাতার ‘‌গেটওয়ে’‌ নয়, উত্তর–পূর্ব এবং ‌পূর্বাঞ্চলেরও। মমতা বলেন, ‘‌বাংলায় নতুন হোটেল অনেক হয়েছে। ট্যুরিস্ট স্পট বেড়েছে। ৩৪ শতাংশ বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও ২২৮ শতাংশ দেশীয় পর্যটকও বেড়েছে। হোম স্টে–‌ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’‌ এই পরিস্থিতিতে বাংলার উন্নয়ন ধাক্কা খাচ্ছে রাজনৈতিক একটি দলের কাছে বলেও মনে করছেন মমতা। বিজেপি–‌র নাম না করে মমতা এদিনও বলেন, ‘‌একটা দল নাগাড়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আইন–শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে বলে মিথ্যা প্রচার করছে। কিন্তু গত ৮ বছরে বাংলা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। অর্থনীতি বা উন্নয়ন— সব দিক থেকেই এগোচ্ছে বাংলা। এখানে একদিনও শ্রমদিবস নষ্ট হয়নি। শিল্প নতুন দিশা দেখেছে। আমরা ১০০ একর জমি দিয়েছি সিলিকন ভ্যালিতে। চর্মশিল্পে লখনউ, কানপুর থেকে আসছে। ২ লক্ষ শ্রমিক কাজ করছে। আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার তৈরি হয়েছে রাজারহাটে। দিঘা, মেদিনীপুরেও তৈরি হচ্ছে। 
তাই আমি মনে করি, এটা আজ ঐতিহাসিক দিন। আইটিসি বিশ্বের গর্ব। সেরা হোটেল। আমাদের বাংলারও গর্ব। আমি আবেদন করব, নিজের রাজ্যের সৌন্দর্যটা দেখুন। আর বাইরে গেলে এই রাজ্য কত এগিয়েছে, সুন্দর হয়েছে তার কথা তুলে ধরুন।’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top