প্রদীপ দে, বহরমপুর: একের পর এক কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নীকরণের তীব্র প্রতিবাদ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকারও দাবি করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, ‘‌এরপর তো দেশটাকেই বিলগ্নীকরণ করে দেবে ওরা।’‌
বৃহস্পতিবার বহরমপুর থেকে কলকাতা যাওয়ার আগে সার্কিট হাউসে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রের এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে মমতা বলেন, ‘‌আমরা নীতিগতভাবে বিলগ্নীকরণের বিরুদ্ধে। আমাদের দল তৃণমূল এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদও করছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে দু–একটি সংস্থার মধ্যে এক করা যেতেই পারে। কিন্তু সেটি অফিসার পর্যায়ে। কিন্তু এখানে তো দেখছি, সব তুলে দেওয়া হচ্ছে। বিক্রি করার কথা বলা হচ্ছে। এই যে বিভিন্ন ব্যাঙ্ককে মিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইউবিআই হল আমাদের লিড ব্যাঙ্ক। তার সদর দপ্তর কলকাতা থেকে তুলে নেওয়ার কথা হচ্ছে। সমস্যা হবে। ভবিষ্যৎ কী হবে জানি না। অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি, বলে দিল বিলগ্নীকরণ হবে। তৃণমূলের শ্রমিক ইউনিয়ন লড়াই করছে। আমি নিজেও গেছি। আপাতত আটকানো হয়েছে। বিএসএনএল, এয়ার ইন্ডিয়া, রেল, কলকাতায় থাকা বেঙ্গল কেমিক্যাল, ভারত পেট্রোলিয়াম— সব তুলে দেওয়া হচ্ছে। বিদেশে গিয়ে আমাদের এয়ার ইন্ডিয়া, রেল নিয়ে গর্ব করি। সব শেষ করে দিচ্ছে। এর আগে ৪৫টা সংস্থার বিলগ্নীকরণ করেছে। ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা আসবে। এতে সাময়িক সমাধান হতে পারে। স্থায়ী সমাধান নয়। দেশের আর্থিক হাল খুবই খারাপ। চাকরি তো নেই। মানুষের হাতে কোনও কাজও নেই। মানুষ টাকা খরচ করতে ভয় পাচ্ছেন। আমাদের দেশের যা অবস্থা, তাতে ক্যাশলেস সোসাইটি কোনওদিন চলবে না। ডিজিটালে আপত্তি নেই। কিন্তু মানুষের হাতে টাকা না থাকলে দোকান, বাজার চলবে না। শিল্পও হবে না। সংসার চলবে কী করে। নোট বাতিলের সময় কী হয়েছিল মনে নেই।’‌
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, ‘‌এরপর তো ওরা দেশটাকেই বিলগ্নীকরণ করে দেবে। সবই যদি তুলে দেয়, বিক্রি করে দেয়, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে কী? দেশ চলবে কী করে?’‌ মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব, ‘‌প্রধানমন্ত্রী অবিলম্বে সর্বদলীয় বৈঠক করে এ নিয়ে আলোচনা করুন। দরকার হলে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলুন। এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পিপি মডেলেও কাজ করা যেতে পারে। আমরাও করেছিলাম। বারবার বলছি, বিলগ্নীকরণ কোনও স্থায়ী সমাধান নয়। আমরা প্রতিবাদ করছি, করব।’‌ মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সাংবাদিক বৈঠক সেরেই মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা চলে যান।‌

 

বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রী। ছবি: চয়ন মজুমদার

জনপ্রিয়

Back To Top