‌সব্যসাচী সরকার ও গৌতম মণ্ডল, গঙ্গাসাগর ও কাকদ্বীপ, ৬ জানুয়ারি- বুধবার বাম–সহ কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকা ধর্মঘটের দিন বাংলাকে সচল রাখার জন্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, ইস্যুর প্রতি সমর্থন আছে। কিন্তু ধর্মঘট সমর্থন করেন না। বাংলায় কোনও ধর্মঘট হচ্ছে না। তবে গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলনের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের বৈঠক থেকে রাজ্যের মুখ্য সচিব–‌সহ রাজ্য পুলিশের ডিজি–র উপস্থিতিতে এই নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে ৮ জানুয়ারি বাম–সহ কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। রাজ্য জুড়ে ধর্মঘটের সমর্থনে বাম এবং কংগ্রেস মিলে লাগাতার প্রচারও চালাচ্ছে। বিজেপি–বিরোধী তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির কাছে ধর্মঘটের সমর্থন চেয়েছিলেন বাম, কংগ্রেস নেতৃত্ব। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে এদিনের বৈঠক থেকে মমতা সেই দাবি নাকচ করে দিয়ে ধর্মঘটের দিন জনজীবন সচল রাখার নির্দেশ দিলেন। এদিনের বৈঠক থেকে মমতা বলেন, ‘‌আগামী ৮ তারিখ একটি ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। ধর্মঘটের ইস্যুকে আমরা সমর্থন করি। কিন্তু এই সরকার বরাবর ধর্মঘটের বিরুদ্ধে। সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত সাড়ে ৮ বছরে কোনও ধর্মঘটে সমর্থন করিনি। কারণ আমরা এই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। জনজীবন সচল রাখার পক্ষে আমরা। কারণ এমনিতে দেশের অর্থনীতির হাল খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে আছে। সেই প্রেক্ষিতে আবার একটি দিন কাজ বন্ধ রেখে নতুন করে ক্ষতি চাই না। আমরাও এই ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাব। তবে সেই প্রতিবাদ হবে অন্য ধরনের। গণতান্ত্রিক উপায়ে হবে সেই প্রতিবাদ। অন্য ধর্মঘটের দিন যা যা ব্যবস্থা থাকে, এবারও তা থাকছে। তবে কোনও গন্ডগোল যাতে না হয়, তা পুলিশ–প্রশাসনকে দেখতে হবে।’‌ প্রশাসনিক বৈঠক সেরে তিনি পৌঁছোন গঙ্গাসাগরে। সেখানেও সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলায় কোনও ধর্মঘট হচ্ছে না। আমরা সমর্থন করি না। যে ইস্যুর জন্য ধর্মঘট ডাকা হয়েছে, সে জন্য নিয়মিত রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ আন্দোলন করছি। ধর্মঘট সস্তার রাজনীতি। ক্যা, এনআরসি, এনপিআরের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। ধর্মঘট করতে যাব কেন? দেশে বেকার বেড়ে গেছে। আবার যদি ধর্মঘট করি, হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে। সাধারণ মানুষের কষ্ট হবে। যারা রোজ আনে রোজ খায়, তাদের অনেক ক্ষতি হবে। ধর্মঘট কোনও সমাধান নয়।’

ধর্মঘটে খোলা সরকারি অফিস

আজকালের প্রতিবেদন‌- বুধবার, ৮ জানুয়ারি বাম–‌সহ কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকা ‌সারা ভারত শিল্প ধর্মঘটে‌ রাজ্য‌ সরকা‌রি এবং রাজ্য সরকার পরিচালিত সবকিছু খোলা থাকবে। সমস্ত কর্মীকে ওইদিন উপস্থিত থাকতে হবে। সোমবার এই মর্মে অর্থদপ্তর থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। 
নির্দেশিকায় পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে, প্রথমার্ধে বা দ্বিতীয়ার্ধে কোনওভাবেই ক্যাজু্য়াল লিভ নেওয়া যাবে না। এমনকী আগের দিন ৭ জানুয়ারি বা পরের দিন ৯ জানুয়ারিও ছুটি নেওয়া যাবে না। যাঁরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বা বাড়িতে কোনও সদস্যের মৃত্যু হয়েছে কিংবা অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ছুটিতে আছেন, একমাত্র তাঁদের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাতৃত্বকালীন, সন্তানপালন, মেডিক্যাল এবং আর্ন লিভে যাঁরা আছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও ছাড় রয়েছে। যাঁরা এই নির্দেশিকা অমান্য করবেন, তাঁদের কারণ দর্শাতে হবে। উপযুক্ত কারণ দর্শাতে না পারলে একদিনের ছুটিও কাটা যাবে, একদিনের বেতনও কাটা যাবে। ‘‌যানবাহনের অভাব’ কারণ হিসেবে দেখানো যাবে না। যাঁরা শো কজের জবাব দেবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

Back To Top