যজ্ঞেশ্বর জানা ,বাজকুল: নন্দীগ্রাম–নেতাইয়ের রক্তঝরা ইতিহাস শুনিয়ে বর্তমান দেশ ও রাজ্যের রাবণ রথীদের সাবধান করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বললেন, ‘‌এই মাওবাদীরা আর এই সিপিএম–রা অত্যাচার করত একদিন। তাদের হাত থেকে আমরা বাংলাকে বঁাচিয়েছি, শান্তি ফিরিয়ে দিয়েছি। সেই হার্মাদরা এখন বিজেপি–তে গিয়ে ওস্তাদ হয়েছে।’‌ মমতার গলায় ফের স্পষ্ট সিপিএম–বিজেপি–র অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়ার অভিযোগ। আর সেই অভিযোগ ফের স্পষ্ট করে বিজেপি–আশ্রিত সিপিএমের হার্মাদদের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। বললেন, ‘‌আমরা বাংলা থেকে সিপিএম–কে তাড়িয়েছি। আজ সিপিএমের সকলে বিজেপি–তে ঢুকেছে। তাদেরও বলি, আগামী দিনে রাজনৈতিকভাবে প্রত্যেককে হারাব আমরা। কারণ, হার্মাদের জন্য আর আমরা বাংলায় দাঙ্গা করতে দেব না।’‌
পরিবর্তনের ধাত্রীভূমি নন্দীগ্রামের জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের বাজকুলে সরকারি গুচ্ছপ্রকল্পের উদ্বোধন, শিলান্যাস এবং উপভোক্তা সুবিধা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রায় ৪৮ মিনিটের বক্তব্যে কখনও ফিরলেন ২০০৯–এর সিপিএমের সূর্যোদয়ের নামে নৃশংসতার বর্ণনায়, আবার কখনও শোনালেন অতীত আন্দোলন জয়ের কথা। বললেন, ‘‌যখন সূর্যোদয়ের নাম করে, সেদিন কালীপুজোর দিন ছিল। ১০ নভেম্বর। তার আগে কালীপুজো! আমি তৃণমূল ভবনে বসে আছি। আমার বাড়িতে কালীপুজো। যেতে পারিনি। সুফিয়ানরা আমাকে ফোনে শোনাচ্ছে, দেখুন দিদি, গুলি চলছে! তাহের আমাকে ফোনে শোনাচ্ছে, দেখুন দিদি, গুলি চলছে! মনটা ছটফট করছে। নন্দীগ্রামে হয়তো আমরা অনেক মানুষকে বাঁচাতে পারিনি। আজ পর্যন্ত তারা ফিরে আসেনি।’‌ নন্দীগ্রাম সূর্যোদয়–কাণ্ড প্রসঙ্গে আরও বললেন, ‘‌মদ খেয়ে অত্যাচার করতে করতে অ্যাসিড বাল্‌ব মারছে, বোমা ছুঁড়ছে। বলছে, নন্দীগ্রামে ঢুকতে দেব না। আর আমাদের জেদ, আমরা ঢুকবই। সেদিন আমাকে খুন করার চক্রান্ত করা হয়েছিল। কোলাঘাটে আটকে দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী এক ব্যক্তির মারফত মেসেজ পাঠিয়ে আমায় ফিরে আসতে বলেছিলেন।’‌ মমতা স্মরণ করিয়ে দিলেন রক্তঝরা নন্দীগ্রামের খলনায়ক লক্ষ্মণ শেঠের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের কথা। বললেন, ‘‌আপনারা জানেন না, আপনাদের নন্দীগ্রামে যিনি খুন করেছিলেন, তিনি কোন পার্টি করেন? যিনি নন্দীগ্রামের খুনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তিনি কোন পার্টি করেন, বলুন তো? নামটাও বলতে চাই না। রামের ভাইয়ের নাম কী? তার নাম মনে আছে তো? তিনি এখন কোন পার্টি করেন? তৃণমূলে এঁদের জায়গা নেই।’‌

বাজকুলে মুখ্যমন্ত্রী। আছেন শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: আজকাল

জনপ্রিয়

Back To Top