গৌতম মণ্ডল, কাকদ্বীপ, ৬ জানুয়ারি- বুলবুল ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কোনও টাকা দেয়নি। রাজ্য সরকার নিজস্ব কোষাগার থেকে বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করেছে। সুন্দরবনের ১৯টি ব্লকের মধ্যে ১৬টি ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বুলবুলে। এরমধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মধ্যে ১৩টি ব্লক। সোমবার কাকদ্বীপের হালদারচকে জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে বুলবুলের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত খতিয়ান তুলে ধরেন জেলাশাসক পি উলগানাথন। সেই খতিয়ান পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কাজে সন্তুষ্ট হয়েও কেন্দ্রকে বেঁধেন মমতা। এদিনের বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌আমাদের সরকার দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দিয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার কোনও টাকা দেয়নি। পুরোটাই রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে খরচ হয়েছে। বুলবুল পরবর্তী পুনর্গঠন খুব ভাল হয়েছে। এরজন্য সরকারি আধিকারিক, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।’‌
গত ৯ নভেম্বর সন্ধেয় আছড়ে পড়ে বুলবুল। বুলবুলের ঝাপটায় লন্ডভন্ড হয়ে যায় সুন্দরবনের একাধিক ব্লক। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নামখানা, সাগর, কাকদ্বীপ, পাথরপ্রতিমা, মথুরাপুর, রায়দিঘি, কুলতলি–সহ একাধিক ব্লক। বিপর্যয়ের পরদিন মুখ্যমন্ত্রী কাকদ্বীপে চলে আসেন। প্রশাসনিক আধিকারিকদের দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তারপর সরকারি উদ্যোগে শুরু হয় ত্রাণ বণ্টন। সেই বৈঠকের পর এদিন ছিল পরবর্তী প্রশাসনিক বৈঠক। এদিনের বৈঠকের শুরুতেই বুলবুলের পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন নিয়ে জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। জেলাশাসক পি উলগানাথন এদিনের বৈঠক থেকে জানান, বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১২ লক্ষ মানুষকে কোনও না কোনও সাহায্য করা হয়েছে। ২ লক্ষ ৯০ হাজার তার্পোলিন বিলি করা হয়েছে। আড়াই লক্ষ পরিবারের হাতে ডিএম কিট তুলে দেওয়া হয়েছে। মৃতদের সরকারি সাহায্য দেওয়া হয়েছে। ২ লক্ষ ৪০ হাজার পরিবারকে পোশাক বিলি করা হয়েছে। ৩০ হাজার পরীক্ষার্থীকে হ্যারিকেন ও ২ লক্ষ ৩০ হাজার লিটার কেরোসিন বিলি করা হয়েছে। সাড়ে ৪ লক্ষ কৃষক ক্ষতিপূরণের আবেদন করেছিলেন। তারমধ্যে ২ লক্ষ কৃষক ইতিমধ্যে ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়ে গিয়েছেন। বাকিদের দ্রুত দিয়ে দেওয়া হবে। ৭ হাজার পানের বরজের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। জেলার পুকুরগুলি সংস্কার করা হয়েছে। ভেঙে পড়া বাড়ির ৮০ শতাংশ মানুষকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে নতুন বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চলের জন্য নতুন করে ম্যানগ্রোভ লাগানো হয়েছে। বনদপ্তরও ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করছে।‌ বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌এইসময় বিভিন্ন এলাকায় মেলা হচ্ছে। প্রয়োজনে সেই মেলাতে শিবির করে সাহায্য করতে হবে। বিকল্প চাষের জন্য বীজ বিতরণ করতে হবে।’‌ এছাড়া বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত ধানকে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত বিধায়ক সমীর জানা, বঙ্কিম হাজরা, বিশ্বনাথ দাসের থেকে এলাকার খবর নেন মুখ্যমন্ত্রী।‌‌‌

সাগরে কপিল মুনির আশ্রমে মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে মহন্তজ্ঞান রাজ। ছবি: কুমার রায়

জনপ্রিয়

Back To Top