আজকালের প্রতিবেদন- কলকাতা ও বিধাননগর–‌সহ রাজ্যের সব পুরসভার পুর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আজ নজরুল মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বৈঠক করবেন। প্রায় ১২০টি পুরসভা রয়েছে। চেয়ারম্যানরাও উপস্থিত থাকবেন। মুখ্য বক্তা মুখ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া মেয়র ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী বক্তব্য পেশ করবেন। তিনি রাজ্যের পুরসভাগুলির দায়িত্বে রয়েছেন। লোকসভা নির্বাচনে দলের ফল আশানুরূপ না হওয়ায়, ইতিমধ্যে দলের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই পর্যালোচনা করেছেন। ২০২০–‌তে কলকাতা পুরসভা ও বিধাননগর পুরসভা–‌সহ অন্য পুরসভাগুলিতে নির্বাচন রয়েছে। আজ, মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, সেদিকেই নজর সকলের।
পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কিছু ওয়ার্ডে তৃণমূল পিছিয়ে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অবশ্য দলের মিটিঙে জানিয়ে দিয়েছেন, ঘাবড়াবার কিছু নেই। দল ঘুরে দাঁড়াবে। তার আগে সংগঠন আরও শক্তিশালী করতে হবে। ইতিমধ্যে কলকাতা পুরসভায় ওয়ার্ডভিত্তিক সভা শুরু হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেখানে যেখানে দল পিছিয়ে ছিল, সেখানে আরও বেশি সময় দিতে হবে। পরিষেবার কাজ মানুষের কাছে সঠিক সময়ে পৌঁছে দিতে হবে। জনসংযোগ বাড়াতে হবে। ঝগড়াঝাঁটি করলে চলবে না। ঐক্যবদ্ধ হয়ে পুর নির্বাচনে নামতে হবে। ইতিমধ্যে মেয়র ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী কলকাতার বরোগুলিতে বৈঠক শুরু করেছেন। তিনি বৈঠকে বলেছেন, ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে। সময় দিতে হবে দলের জন্য। যাঁরা পিছিয়ে আছেন, তাঁরা জেতার চেষ্টা করুন। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুরনো কর্মীদের কাজে লাগাতে হবে। অনেকেই অভিমান করে বসে আছেন। প্রথম থেকে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের কোনও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ১৯৯৮ সালে তৃণমূল তৈরি হওয়ার সময় যাঁরা সঙ্গে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেককেই এখন দেখা যায় না। তাঁদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে এবার জেতার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। বিজেপি ইতিমধ্যে নতুন খেলা শুরু করেছে। তা হল, বাঙালি–‌অবাঙালিদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা। এটা যেভাবেই হোক রুখতে হবে। সম্প্রতি কাঁচরাপাড়ায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, বাংলায় থাকতে গেলে তাঁদের বাংলায় কথা বলতে হবে। বিজেপি–‌র ফেট্টি বেঁধে বাংলায় গুন্ডামি করা চলবে না। কলকাতা, বিধাননগর–‌সহ অন্য পুরসভাগুলিতে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়ে গেছে। দলের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সংগঠনের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন নিয়েও প্রচার করতে হবে।
নজরুল মঞ্চে বৈঠক শুরু বেলা ১১টা নাগাদ। মুখ্যমন্ত্রী আসার আগে রাজ্য নেতারা বক্তব্য পেশ করবেন। দেখা যাচ্ছে, লোকসভা নির্বাচনে ফলাফলের পর কয়েকটি পুরসভা বিজেপি–‌র দখলে গেছে। কেন তৃণমূলের কাছ থেকে পুরসভা চলে যাচ্ছে, তা নিয়েও বার্তা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও তিনি বারবারই বলেছেন, দলের কাজ ভাল না লাগলে দল ছেড়ে চলে যেতে পারেন। এতে দল শুদ্ধ হয়।     
 

জনপ্রিয়

Back To Top