আলোক সেন,‌বাঁকুড়া: খুচরো পয়সা নিয়ে ছোট ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি মেটাতে উদ্যোগী হলেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার প্রশাসনিক বৈঠকে বাঁকুড়া চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিনিধিরা ব্যাঙ্ক খুচরো পয়সা জমা না নেওয়ায় ছোট ব্যবসায়ীরা কীভাবে সমস্যায় পড়েছেন, তা মুখ্যমন্ত্রীকে জানান। এ কথা শুনে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌বিষয়টি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের। তাই সরাসরি কিছু করতে পারব না। কিন্তু চুপ করে বসে থাকলে চলবে না। সমস্যার সমাধানে আমাদের চেষ্টা করতে হবে।’‌ তিনি চেম্বারের প্রতিনিধিদেরও বলেন, ‘‌আপনারাও সাধ্যমতো চেষ্টা করুন।’‌ সভামঞ্চে উপস্থিত সাংসদ মুনমুন সেনকে বিষয়টি দেখতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর চেম্বারের প্রতিনিধিদের বলেন, ‘‌আপনাদের মেমোরান্ডামের কপি মুনমুন সেনের কাছে জমা দিন। উনি রাজ্যসভা, লোকসভা এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কে সেই মেমোরান্ডাম পাঠাবেন।’‌ চেম্বারের কর্মকর্তারা এদিনই সাংসদের হাতে তাঁেদর মেমোরান্ডাম তুলে দিয়েছেন। এদিন চেম্বার অফ কমার্সের কর্মকর্তা মধু দরিপা, বিমল ধানুকারা বলেন, ‘‌এক–একজন ব্যবসায়ীর কাছে প্রচুর পরিমাণে খুচরো পয়সা জমা হয়েছে। কিন্তু ব্যাঙ্কে জমা দিতে গেলে কোনও ব্যাঙ্কই তা নিতে চাইছে না। ফলে তাঁরা খুব সমস্যার মধ্যে পড়েছেন।’‌ উত্তরে লিড ব্যাঙ্কের প্রতিনিধি বলেন, ‘‌স্থানীয় ব্যাঙ্কগুলির চেস্টে জায়গা না থাকায় এবং খুচরো গোনার লোক না থাকার কারণে ব্যাঙ্কগুলি খুচরো জমা নিতে পারছে না।’‌ চেম্বারের প্রতিনিধিরা জানান, তাঁরা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সার্কুলার দেখেছেন। তাতে বলা হয়েছে, সব ব্যাঙ্ককেই খুচরো পয়সা জমা নিতে হবে। সেই সার্কুলার ব্যাঙ্কগুলিকেও দেখিয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোনও কাজ হয়নি। এরপরেই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
‌বাঘ খুঁজতে ড্রোন?‌
বুধবার বাঁকুড়ার প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জেলার বন দপ্তরের আধিকারিকদের কাছ থেকে এই জেলায় বাঘের কোনও গতিবিধি লক্ষ্য করা গেছে কি না তা জানতে চান। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘‌একটি বাঘ ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের বনাঞ্চলগুলিতে ঘোরাফেরা করছে বলে শোনা যাচ্ছে। এই জেলায় কী খবর?‌’‌ উত্তরে বনাধিকারিকেরা জানান, এই জেলায় এখনও পর্যন্ত বাঘের উপস্থিতির কোনও হদিশ তাঁরা পাননি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌এখনও আসেনি, কিন্তু আসতেও তো পারে। তাই প্রথমত বিষয়টির প্রতি কড়া নজরদারি রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করতে হবে।’‌ তিনি পুলিসকর্তাদের বলেন, ‘‌যদি ড্রোনের সাহায্যে বাঘের লোকেশন চিহ্নিত করা যায়, তাহলে সেই চেষ্টাও করতে হবে।’‌ বনাধিকারিকেরা মুখ্যমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন, তাঁরা ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন।

জনপ্রিয়

Back To Top