বিজেপিকে হারিয়ে দিলেন একা মমতা! ২৪ শের মহড়া তৃণমূল নেত্রীর

শ্রাবণী গুপ্ত:‌ নরেন্দ্র মোদি ২০১৯ এই "ডিজিটাল ইন্ডিয়া"র ডাক দিয়েছিলেন। আর ২০২১শে দাঁড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়াকে যদি মাপকাঠি ধরা হয়, মমতা কিন্তু একাই কয়েক গোলে হারিয়ে দিলেন বিজেপিকে। এত দিন ২১শে জুলাই ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের "শহিদ দিবস"। এ বছর বিজেপির তরফে পাল্টা "গণতন্ত্র বাঁচাও" কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। শুধু রাজ্যেই নয়, দিল্লিতে ধর্ণায় বসেন দিলীপ ঘোষ সহ রাজ্যের সাংসদরা। 
ফেসবুক থেকে তৃণমূল নেত্রীর ভাষণ লাইভ সম্প্রচারিত হয়। একই ভাবে দিলীপ ঘোষের ও অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য ও লাইভ করা হয়। 
aajkaal.in দুটি পেজের মধ্যে একটি তুলনা করেছে মাত্র। ১) অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস ২) ওয়েস্ট বেঙ্গল বিজেপি। দুটি পেজেই যথাক্রমে মমতা ব্যানার্জি ও দিলীপ ঘোষের ভাষণ পোস্ট করার ৬ ঘন্টা পর কী দেখা গেল? 
তৃণমূল নেত্রীর ভাষণে লাইক পড়েছে ২২ হাজার। কমেন্ট করেছেন ২ লক্ষ ৭৭ হাজার মানুষ। শেয়ার করেছেন ৩১ হাজার মানুষ।
 অন্যদিকে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য লাইক করেছেন ১ হাজার ৭০০ জন। কমেন্ট করেছেন ৫০৭ জন। শেয়ার করেছেন ১ হাজার ১০০ জন।
         
এদিনের বক্তব্যে শুরু থেকেই ২৪ শের লোকসভা ভোট কে মাথায় রেখে বিজেপি বিরোধী মঞ্চ গঠনে জোর দেন তৃণমূল নেত্রী। কংগ্রেসের তরফে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম ও সিনিয়র কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং, এন সি পি নেতা শারদ পাওয়ার ও তাঁর কন্যা সুপ্রিয়া সুলে, সমাজবাদী পার্টির তরফে রাম গোপাল যাদব ও জয়া বচ্চন ছাড়াও ডিএমকে, টিআরএস, আরজেডি, আপ, শিবসেনা, শিরোমণি অকালি দল। রাজনৈতিক মহল বলছে, সাম্প্রতিক অতীতে কোনও বাঙালি নেতার দলীয় কর্মসূচির ভাষণ দেশ জুড়ে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব শোনেনি। এর থেকে পরিষ্কার, বিজেপি বিরোধী মঞ্চের মুখ হিসেবে তৃণমূল নেত্রীকে কার্যত মেনে নিচ্ছে অন্যান্য দলগুলো। পেগাসাস, করোনা মোকাবিলায় ভ্যাকসিন বিপর্যয়, পেট্রোপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করা; একাধিক ইস্যুতে এদিন কেন্দ্রের বিজেপি দরকার কে বিদ্ধ করেন মমতা। আজকের ভাষণেই জানিয়ে দিলেন, ২৬ তারিখ থেকে আগামী কয়েকদিন দিল্লিতে থাকবেন তিনি। মিলিত হতে চান সোনিয়া গান্ধী সহ বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বের সঙ্গে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন,  কংগ্রেস এই মুহূর্তে যতই হীনবল হোক না কেন, মমতা নিজেও জানেন দেশ জুড়ে বিজেপি বিরোধী ফ্রন্ট তৈরি করতে গেলে তা কংগ্রেস কে বাদ দিয়ে হবে না। দলের নতুন সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরকে পাশে নিয়ে তৃণমূল নেত্রীর এদিনের স্পষ্ট বার্তা ছিল, দেশ বাঁচাতে হলে বিজেপিকে হারাতে হবে। 
          
২০১৯ লোকসভা ভোটের আগে নকো বিরোধী ফ্রন্ট গঠনের চেষ্টা হলেও তা নানা কারণে সফল হয়নি। কিন্তু এই বিধানসভা নির্বাচনে যেভাবে মোদি-শাহ-যোগী সহ গেরুয়া শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রচার সত্ত্বেও তৃণমূলের নিরঙ্কুশ জয় হয়েছে তারপরে আশাবাদী বিরোধী শিবির। তৃণমূল নেত্রীও তাই বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি তিন ভাষায় এদিন ভাষণ দিলেন। ২৪ শের লোকসভা ভোট কে সামনে রেখেই আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসকে যে অন্য রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তাও এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মমতা।