সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও সঞ্জয় বিশ্বাস, দার্জিলিং: বুধবার পাহাড়ে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তোপ দাগলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বললেন, ‘‌কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বড় বড় জ্ঞান দিয়েছেন। আমাদের মিথ্যেবাদী বলে বিজেপি। আমরা যদি মিথ্যেবাদী হই তাহলে আপনি বলুন সত্যটা কী? বিজেপি সরকারকে বলব, আমাকে গালি দিয়ে দেশ খালি করবে তা হবে না।‌’‌ 
এদিন দার্জিলিঙের সভা থেকে এনআরসি–ক্যা–এনপিআর নিয়ে গোর্খাদের আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপিকে দিলেন খোলা চ্যালেঞ্জ। জানিয়ে দিলেন, বিজেপি নেতারা যত খুশি সবাইকে ভয় দেখান, তিনি (‌মমতা ব্যানার্জি)‌ ভয় পাবেন না। বললেন, ‘জীবনে অনেক লাঠি দেখেছি, গুলির সঙ্গে লড়াই করেছি। অনেক বার হাসপাতালে যেতে হয়েছে। এটা আমি পছন্দ করি। যদি লড়তে পারেন তাহলে আমার সঙ্গে লড়াই করুন, রাজনৈতিকভাবে তো লড়াই করার সামর্থ্য নেই, পেছন থেকে লড়াই করে।‌’‌ 
মমতা এদিন জানান, ‌পাহাড়ে ভোট না পেলেও গোর্খাদের বিপদের কথা অঁাচ করে তিনি এসেছেন। প্রয়োজনে তাঁদের জন্য কুরবানিও দিতে পারেন।
দীর্ঘ মিছিলে হেঁটে দুপুর আড়াইটে নাগাদ দার্জিলিং মোটরস্ট্যান্ডের সভামঞ্চে পৌঁছন মমতা। পেছনে তখন জনসমুদ্র। সভায় বক্তব্য রাখেন বিশপ স্টিফেন লেপচা। বনলেন, ‘‌সংবিধানকে রক্ষা করুন, নাগরিকত্বকে রক্ষা করুন। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ যে তিনি সকলকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছেন।’  
বলেন বিনয় তামাংও‌। ‘‌যদি কেউ আমাদের বঁাচাতে পারেন, তাহলে মমতা ব্যানার্জিই পারবেন।’‌
তঁার প্রতি পাহাড়ের এই আস্থার সূত্র ধরেই নিজের বক্তব্যে বার বার গোর্খাদের অভয় দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বললেন, ‘‌পাহাড় এনআরসি–ক্যা–এনপিআর চায় না। সবার মনের মধ্যে প্রশ্ন আছে ক্যা হলে, নাগরিকত্ব থাকবে?‌ না থাকবে না? আমি সব সম্প্রদায়ের মানুষকে বলব ভয় পাবেন না।‌ ‌পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। মণিপুর, নাগাল্যান্ড, মিজোরামের মতো রাজ্যে সমস্যা হচ্ছিল বলে সেখানে চুপ করে গেছে, সেখানে না হলে বাংলায় কেন হবে?‌’‌ এনআরসি থেকে এক লক্ষ গোর্খার নাম কেন বাদ দেওয়া হয়েছিল সেই প্রশ্ন তোলেন মমতা। বলেন, ‘‌স্বাধীনতার ৭৩ বছর বাদে বিজেপি–‌র মনে হয়েছে নতুন নাগরিক তৈরি করতে হবে?‌ বিজেপি ঠিক করে দেবে কে নাগরিক?‌’ 
মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘‌ভোটের সময় এসে গোর্খাল্যান্ড দেবে বলে, জেতার পরে পালিয়ে যায়। আট বছর ধরে এটাই দেখছি।’ এদিন ফের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, সব রাজ্য ভয়ে কেন্দ্রের ডাকা মিটিংয়ে যোগ দিয়েছে। আইনে লেখা আছে, বাবা মায়ের জন্মদিন, শংসাপত্র দিতে হবে। সকালে একরকম কথা বলে, বিকেলে–দুপুরে একরকম বলে।
তঁার প্রশ্ন, কেন কেন্দ্রের নীতি বিজেপি শাসিত উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলোতে কার্যকরী করা হচ্ছে না?‌ সেখানে মানুষ চায় না বলে?‌ কেন্দ্র রুটি–রুজি দিচ্ছে না বলেও এদিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। এজেন্সি লাগিয়ে প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। বললেন, ‘‌প্রতিবাদের আওয়াজ তুললে পাকিস্তানি বলা হয়। ‌আপনারা কী পাকিস্তানের দূত?‌’‌। উত্তরপ্রদেশ–‌সহ দেশজুড়ে প্রতিবাদীদের কম্বল, খাওয়ার জল কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‌লখনউতে ২৩ জন মারা গেছেন, আমাদের রাজ্যে আতঙ্কে ৩০ জনেরও বেশি আত্মহত্যা করেছেন। আমি সকলকে বলেছি ভয় পাবেন না।’
মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইনে সিটিজেনশিপ সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলায় বিজেপি শিবিরকে একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন,‌ ‘‌এদের মাথা কাজ করে না। এদের থেকে বড় মিথ্যেবাদী, চিটিংবাজ হয় না।’‌ বুধবারের মিছিল যথেষ্ট বড় হয়েছে বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, ক্যা, এনআরসি এনপিআর না ফেরানো পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। বলেন, ‘‌এখানে একজন গোর্খাকেও তাড়াতে দেব না। কাউকে ভাগাতে হলে আগে আমাকে ভাগাও।’‌ বাংলার অনেককে ওরা ভিনরাজ্য থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তঁার আশ্বাস, ‘‌রাজ্যে কোথাও ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top