দীপেন গুপ্ত ও বুদ্ধদেব দাস,‌হুড়া ও ডেবরা: জয় শ্রীরাম নিয়ে ফের বিজেপি–কে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। কে কোন দেবতার পুজো করবেন সেটা তাঁর ব্যাপার, অন্য কেউ তা ঠিক করে দিতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‌এখন বলছে ওদের কথামতো আমাদের রাম বলতে হবে। কেন বলব, সবার তো নিজের নিজের দেবতা আছে। আদিবাসীদের মারাং বুরু, আমাদের শিব–সহ অনেক দেবতা আছে, তাদের নাম বলব।’‌ পাশাপাশি তঁার হুঁশিয়ারি, ‘‌ঝাড়খণ্ড থেকে লোক ঢুকিয়ে বাংলাকে অশান্ত করার চেষ্টা চলছে, তা আমরা কখনওই হতে দেব না। আদিবাসীদের জমি আমরা কিছুতেই দখল করতে দেব না।’‌
বুধবার তিনি পুরুলিয়ার হুড়া, কোটশিলা ও পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরাতে নির্বাচনী জনসভা করেন। পুরুলিয়া–মেদিনীপুরে এখন ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর তাপমাত্রা। সেই খর তাপকে উপেক্ষা করে রের্কড ভিড় হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর সভাগুলিতে। সভায় মহিলাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে সভায় আসার জন্য মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের ধন্যবাদ জানান। দুপুর ১টা নাগাদ তিনি ডেবরায় এসে পৌঁছন। ডেবরা ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। সভায় ছিলেন প্রার্থী দেব ওরফে দীপক অধিকারী, মেদিনীপুর কেন্দ্রের প্রার্থী মানস ভুঁইয়া, মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র–সহ জেলার নেতারা। দেবকে দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌দেব আমার প্রিয় প্রার্থী। খুব কাজের ছেলে। বন্যা, পুজো, রমজান সব কিছুতেই ওকে পাওয়া যায়। দলের অনেক কাজ করে। দলের হয়ে অনেক জায়গায় প্রচার করেছে। ওর মতো ছেলে আমি চাই। ওকে সকলে ভোট দেবেন।’‌ পাশাপাশি তুলে ধরেন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের বঞ্চনার কথা। বলেন, ‘‌কেন্দ্র টাকা না দিলেও মানুষকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে আমরাই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান করব। এর জন্য দু’‌ থেকে তিন বছর সময় লাগবে। ঘাটালের ৯৮ শতাংশ কৃষককে কিসান ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হয়েছে।’‌
পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মৃগাঙ্ক মাহাতোর সমর্থনে এদিন মুখ্যমন্ত্রী পুরুলিয়ার কোটশিলা ও হুড়ায় জনসভা করেন। বিজেপি এবং মোদিকে তুলোধোনা করে তিনি বলেন, ‘‌পুরুলিয়ায় একটা সময় দিনে–রাতে খুন হত। মাওবাদী আতঙ্কে থাকত মানুষ। তখন কোথায় ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। আজ বাংলায় এসে বড় বড় কথা বলতে লজ্জা করে না। পুরুলিয়ায় কলেজ, হাসপাতাল–সহ রাস্তাঘাটের যে কাজ হয়েছে তা তৃণমূল সরকারের আমলেই। আজ গোটা জঙ্গলমহলে শান্তির পরিবেশে হয়েছে একের পর এক উন্নয়ন। কিন্তু ঝাড়খণ্ড থেকে ফেট্টিবাঁধা লোকজন এসে পুরুলিয়াকে অশান্ত করতে চাইছে, তা আমরা কখনওই হতে দেব না। আদিবাসীদের সঙ্গে কুর্মিদের ঝামেলা বাধিয়ে দিচ্ছে। অশান্ত করার চেষ্টা করছে। এদের কোনওভাবেই ঢুকতে দেবেন না।’‌  
ডেবরার সভাতেও মোদির সমালোচনায় মুখর ছিলেন মমতা। বলেন, দিল্লির সরকার বাংলাকে বঞ্চনা করে। অসম্মান করে। অত্যাচার করে। মোদি সরকারের নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট সরকার চলছে। তাই এই ভোট মোদি সরকার বদলের ভোট বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ‘‌মোদিকে না সরালে দেশে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, ধর্ম কিছুই থাকবে না। মোদি ফের ক্ষমতায় এলে দেশের ইতিহাস বদলে দেবেন। মোদি ফের এলে আর ভোট হবে না। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেবেন।’‌একই সুরে তিনি পুরুলিয়ায় বলেন, ‘‌সবচেয়ে মিথ্যাবাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আসলে তাঁর কাউন্সিলর হওয়াও উচিত নয়। দাঙ্গা করে চাওয়ালার ভেক ধরে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এখন আবার বলছে, ওদের কথা মতো আমাদের রাম বলতে হবে। কেন বলব?‌ সবার নিজের নিজের দেবতা আছে। আদিবাসীদের মারাং বুরু, আমাদের শিব–সহ অনেক দেবতা আছে, তাদের নাম বলব। আমি যদি একটা ছবি নিয়ে গিয়ে বলি এটা পুজো করতে হবে, আপনারা করবেন!‌’‌ 
পুরুলিয়ার দুটি সভাতেই উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো, মলয় ঘটক, সন্ধ্যারানি টুডু, সভাধিপতি সুজয় ব্যানার্জি, রাজ্যসভার সাংসদ ডাঃ শান্তনু সেন–সহ জেলা নেতারা। ‌ ‌

জনপ্রিয়

Back To Top