‌আজকালের প্রতিবেদন: বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি দলের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করলেন। প্রায় সব বিধায়কই এদিনের বৈঠকে হাজির ছিলেন। বিধায়কদের বলে দেওয়া হয়েছে, এলাকায় সজাগ থাকবেন। মানুষের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, মমতা বিধায়কদের বলেছেন, ‘‌ভুল করলে মানুষের কাছে যান। মানুষকে এড়িয়ে যাবেন না। কাছে গেলে দেখবেন ক্ষোভ কমে গেছে।’‌ 
টিভি চ্যানেলে প্রায়ই দলের নেতাদের বলতে দেখা যাচ্ছে। এতে মমতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘টিভিতে বলা বন্ধ করুন। প্রতিদিন বলার দরকার কী?’ এ–ও বলা‌ হয়েছে, কোনও আলটপকা মন্তব্য যেন করা না হয়। জনসংযোগ আরও বাড়াতে বলা হয়েছে। ঠিক হয়েছে, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ৪ জনের নাম ঠিক করতে হবে। এঁদের মধ্যে দু’জন বুথে সংগঠনের কাজ করবেন, সরকারি পরিষেবা নিয়ে ঠিকমতো প্রচার হচ্ছে কি না তা দেখবেন একজন এবং সোশ্যাল মিডিয়া দেখবেন একজন। ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে নাম, ঠিকানা, ছবি পাঠাতে বলা হয়েছে। সব দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিধায়কদের।
মন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জির ক্ষমতা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। সুব্রত বক্সির সঙ্গে তাঁকেও কোচবিহারে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে। রাজীবকে ইতিমধ্যে নদিয়া জেলার পর্যবেক্ষক করা হয়েছে। নদিয়ায় গিয়ে তিনি বেশ কয়েকটি সাংগঠনিক বৈঠকও করেছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর কোচবিহারে যাওয়ার কথা।
এদিনের বৈঠকে বিধায়কদের উদ্দেশে মমতা বলেছেন, ‘‌দল ছেড়ে যাঁরা গেছেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই ফিরে আসছেন।’‌ বিধায়কদের বলা হয়েছে, অন্য রাজ্যে বা বিদেশে গেলে দল ও সরকারের অনুমতি নিতে হবে। সূত্রের খবর, এদিন তৃণমূল ভবনে কিছুক্ষণের জন্য ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। তবে তিনি বৈঠকে ছিলেন না। বিধায়কদের মিডিয়াকে এড়িয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সঙ্ঘর্ষে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সামনেই ২১শে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সভা। এই সভায় বেশি করে লোক আনার কথা বলা হয়েছে। যে কাজ মানুষ পছন্দ করেন না, সেই কাজ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এলাকায় মিটিং–‌মিছিল করতে হবে। বিজেপি–‌র বিরুদ্ধে বলতে হবে। সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরতে হবে। বৈঠকে এদিন উপস্থিত ছিলেন সুব্রত মুখার্জি, শোভনদেব চ্যাটার্জি, শুভেন্দু অধিকারী, পূর্ণেন্দু বসু, গৌতম দেব, মলয় ঘটক, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বসু, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, সুব্রত বক্সি, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, শঙ্কর সিং, রুকবানুর রহমান, কল্লোল খাঁ, মালা সাহা, স্মিতা বক্সি, অসীমা পাত্র, তপন দাশগুপ্ত, পরশ দত্ত, নয়না ব্যানার্জি–‌সহ অনেকেই। ‌মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে এদিনের বৈঠকে নিজের এলাকায় নির্বাচনে খারাপ ফলের জন্য ভর্ৎসনাও করা হয়। বৈঠকে এদিন প্রত্যেককে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তৃণমূল স্তর থেকে রাজ্য স্তর পর্যন্ত সমন্বয় যেন বজায় থাকে।‌‌

 

তৃণমূল ভবনে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বৃহস্পতিবার। ছবি: আজকাল

জনপ্রিয়

Back To Top