দেবব্রত ঘোষ, আসানসোল, ৩০ মার্চ- ভেলোরে চিকিৎসা করাতে গিয়ে মৃত ভাইকে জামুড়িয়ায় নিজের বাড়িতে আনতে পারায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে চিরকৃতজ্ঞ জামুড়িয়ার সিপিএম বিধায়ক জাহানারা খান। তিনি বলেন, ‘‌আমাদের পরিবার কখনও ভাবতে পারেনি আমার মৃত ভাই আমজাদের (৩৮) দেহ জামুড়িয়ায় ফিরিয়ে আনতে পারব। মুখ্যমন্ত্রী ওই সময় আমাদের পরিবারের সঙ্গে যে সহযোগিতা করেছেন তার জন্য আমি ওঁর কাছে এবং রাজ্য সরকারের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’‌
জাহানারার কথায়, ‘‌১৭ মার্চ আমি আমজাদকে নিয়ে প্লেনে চেন্নাইয়ে যাই। সেখানে ওইদিন রাতেই হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে গিয়ে জানতে পারি, ওর পায়ে বোন ম্যারোতে ক্যান্সার ধরা পড়েছে। ২৬ মার্চ ওর পায়ে অস্ত্রোপচার হয়। এরপর থেকেই শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হয়। ২৮ মার্চ রাত ২টোয় আমজাদ মারা যায়। তখন আমার কাছে একটা সমস্যা এসে দাঁড়াল কীভাবে ভাইয়ের দেহ জামুড়িয়ায় ফিরিয়ে আনব। ফোন করলাম আমাদের দলের নেতা সুজন চক্রবর্তীকে। পাশাপাশি নবান্নে মুখ্য সচিবকেও বলা হল। তিনি আসানসোলের পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলতে বললেন। অন্যদিকে, সুজনদা দিদির (মমতা ব্যানার্জি) সঙ্গে কথা বললেন। মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা ভুলব না। একই সঙ্গে আসানসোল–দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার সুকেশকুমার জৈনকে কৃতজ্ঞতা না জানিয়ে পারছি না। ওঁর প্রচেষ্টায় আমি আমার ভাইকে জামুড়িয়ায় মাটি দিতে পেরেছি। সুকেশকুমার চেন্নাইয়ের পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে অ্যাম্বুল্যান্সে আমার ভাইয়ের দেহ জামুড়িয়ায় আনার ব্যবস্থা করেছেন। সোমবার রাত ২টোর সময় আমরা ফিরি। সকাল ৯টায় নিউ কেন্দায় ভাইয়ের দেহে মাটি দেওয়া হয়। ভাই কলকাতার বাঘাযতীনে একটা এডুকেশনাল কাউন্সেলিংয়ের কাজ করত। ওর জন্য রাজ্য সরকার যা করল তা ভোলার নয়।’‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top