সোমনাথ নন্দী, কাপগাড়ি (জামবনি), ২৬ নভেম্বর- রাজ্য বিধানসভায় দাঁড়িয়েই বলেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না, কেউ অনাহারে অভুক্ত আছেন। সোমবার জঙ্গলমহলের মাটিতে দাঁড়িয়েও সেকথা সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তাঁর কথায়, ‘২০১২ সালে প্রথম ঝাড়গ্রাম সফরে এসে ২ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার কথা বলেছিলাম। জেলায় এখন ১০০ ভাগ মানুষ ২ টাকা কেজি দরে চাল পান। কেউ কেউ বলে, কিছু মানুষ খেতে পায় না। আমি বিশ্বাস করি না। বিশ্বাস করি না, কেউ অনাহারে আছে। কেউ অভুক্ত আছে।’  
এখন ধান কাটার মরশুম। তবুও সেবাভারতী কলেজের মাঠে মুখ্যমন্ত্রীর সভা ছিল ভিড়ে ঠাসা। সেই সভা থেকেই নাম না করে বিজেপি–কে আক্রমণ করার পাশাপাশি অনাহারের অপপ্রচার নিয়ে মুখ খোলেন মমতা। বস্তুত, তিনি জানিয়েছেন, কন্যাশ্রীরা যেন অপপ্রচারের মোকাবিলা করেন। ১০ হাজার মানুষের হাতে সরকারি পরিষেবা প্রদান করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের জন্য এ রাজ্যে যা প্রকল্প আছে, তা  সারা দেশে, সারা পৃথিবীতে কোথাও নেই। ১৯৯২ সালে জনসংযোগ যাত্রা করেছিলাম। বেলপাহাড়ির জোড়াম গ্রামে গিয়ে দেখেছিলাম, মানুষজন লালপিঁপড়ে সেদ্ধ করে খাচ্ছেন। তখনই শপথ করেছিলাম, ক্ষমতায় এলে এই মানুষগুলোর দু’বেলা পেট ভরে খাওয়ার ব্যবস্থা করব। কথা রেখেছি।’ 
অতীতে জঙ্গলমহলের অস্থিরতার স্মৃতিচারণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোথায় ছিলেন যখন এখানে রোজ রক্ত ঝরত? প্রতি বছর চার–পাঁচশ মানুষ খুন হত? জনতার উন্নয়ন করেছে রাজ্য সরকার। আর নির্বাচনের আগে কিছু টাকা নিয়ে চলে আসবে। ভোট দিতে বলবে।’ হাততালির ঝড় ওঠে মুখ্যমন্ত্রীর পরের বাক্যে, যখন তিনি বলেন, ‘টাকা নেবেন। ভোটটা দেবেন না।’ 
মুখ্যমন্ত্রী বলে চলেন, ‘ভাত দেওয়ার ক্ষমতা নেই। কিল মারার গোঁসাই! ওরা রাবণের পুজো করে। রামের পুজো করে না। ওরা দেবতাদের বিক্রি করে খায় আমরা দুর্গাপুজো করি। রাম দুর্গাপুজো করেছিলেন। ওরা সেই ভক্তের পুজো করে। ঝাড়খণ্ড থেকে কিছু মাওবাদীকে নিয়ে এসে ওরা অশান্তি পাকাতে চাইছে। রাতের বেলায় গ্রামে গ্রামে ঢুকে অপপ্রচার করছে। আগুন জ্বালাবার চেষ্টা করছে।’ 
ভাষণে সিপিএমকেও একহাত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি–সিপিএম যে একই মুদ্রার দুটি পিঠ, তা বুঝিয়ে তিনি বলেন, ‘সিপিএম দিনে লাল জামা আর রাতে গেরুয়া জামা পরে গন্ডগোল পাকাতে চাইছে। ওরা চায় না, বাংলার ভাল হোক। মনে রাখবেন, মা–মাটি–মানুষের সরকারের বিকল্প নেই। বাংলা ভাল থাকুক, এটা ওরা চায় না। সারা বাংলা জুড়ে দাঙ্গা লাগাবে। কুৎসা রটাবে। কখনও অপপ্রচার শুনে ভুল বুঝবেন না!’
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঝাড়গ্রামের সভায় ছিলেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। ছিলেন ঝাড়গ্রাম জেলার চার বিধায়ক, সাংসদ, জেলাশাসক, জেলা পুলিস সুপার–সহ পদস্থ আধিকারিকরা।

 

মাথার ওপর আশ্রয় আর পেটে ভাত। ঝাড়গ্রাম সফরে একটি শিশুর মাথায় সস্নেহ হেলমেট পরিয়ে দিয়ে সেই বার্তাই দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সোমবার। ছবি: মুখ্যমন্ত্রীর টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে

জনপ্রিয়

Back To Top