বিজয়প্রকাশ দাস, পূর্ব বর্ধমান, ২৬ আগস্ট- প্রশাসনিক বৈঠক সেরে ফেরার পথে হঠাৎ বর্ধমান শহরের কাছে উল্লাসের দাসপাড়ায় এক আদিবাসীর বাড়িতে গিয়ে তাঁদের অভাব–অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মুখ্যমন্ত্রী দেখে প্রতিবেশী আদিবাসী মহিলারাও ছুটে আসেন। চা খেতে খেতে তঁাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। কথার ফাঁকে জেনে নেন তঁাদের অভাব–অভিযোগ। ঘরের দাওয়ায় নিজের আত্মীয়ের মতো মনের কথা জানান মহিলারা। তৎক্ষণাৎ সমস্যা সমাধানের নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী। ছিলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, স্বপন দেবনাথ ও সহ–সভাধিপতি দেবু টুডু।
সোমবার পূর্ব বর্ধমানে প্রশাসনিক বৈঠক করতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে ফেরার পথে সটান চলে যান উল্লাসের দাসপাড়ায় এক আদিবাসী দিনমজুরের বাড়ি। আচমকা ঘরের দাওয়ায় মমতাকে দেখে অভিভূত হয়ে পড়েন গৃহকত্রী ঝর্না রুইদাস। অতিথি আপ্যায়নে চা করে আনেন। পড়শি মহিলারা জড়ো হন। চা খেতে খেতেই মুখ্যমন্ত্রী তঁাদের জিজ্ঞাসা করেন, ‘‌তোমরা বাড়িঘর পেয়েছ? তোমাদের কোনও সমস্যা আছে?’‌ ঝর্না জানান, তিনি বাড়ি পাননি। তঁার একটি বাড়ি চাই এবং ছাগল চাই। মুখ্যমন্ত্রী তঁাকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, বাড়ি দেবেন এবং ছাগলও দেবেন। ঝর্না বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এসে আমার কাছে চা খেতে চাইলেন, আমি চা ও বিস্কুট খেতে দিলাম তঁাকে। তিনি চা খেলেন। আমাদের সঙ্গে কথাও বললেন। আমি বাড়ি ও ছাগল চেয়েছিলাম তাঁর কাছে। তিনি আশ্বাস দিয়ে গেলেন বাড়ি ও ছাগল দেবেন বলে।‌ প্রতিবেশী আদিবাসী গৃহবধূ শিশু রুইদাস বললেন, ‌আমিও দিদিকে বললাম আমারও বাড়ি নেই। উনি বললেন, বাড়ি দেবেন এবং ছাগলও দেবেন। বিষয়টি মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে দেখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।‌ আপ্লুত হয়ে বললেন, ‌এতদিন দিদিকে টিভিতে দেখতাম। আজ চোখের সামনে দেখতে পেলাম। তঁাকে সামনাসামনি দেখতে পেয়ে কথা বলে খুব ভাল লাগছে।‌ 
এদিন মুখ্যমন্ত্রী ইছলাবাদ বালিকা বিদ্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রধান শিক্ষিকা ভাস্বতী লাহিড়ী বলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী এসেই জানতে চাইলেন আমাদের কোনও সমস্যা বা অসুবিধা আছে কি না। আমাদের স্কুলের সামনে মাঠটির কথা বললাম। এই মাঠটি নিয়ে সমস্যা রয়েছে। মাঠে গাছ লাগালেও বাঁচাতে পারছি না। আসলে মাঠের পুরোপুরি অধিকার বিদ্যালয়ের নেই। তাই উনি আশ্বাস দিয়ে গেলেন যে বিদ্যালয়কে এই মাঠটি দিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তী পদ্ধতি সরকারিভাবে নেওয়া হবে।’‌ ভাস্বতীদেবী জানান, এই মাঠটির অর্ধেক স্কুলের এবং অর্ধেকটি বর্ধমান পুরসভার। এর আগে বর্ধমান পুরসভা ও জেলাশাসকের কাছেও এই মাঠটি নিয়ে আমরা আবেদন করেছিলাম। বলেছিলাম, মাঠটি যদি আমাদের দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে স্কুলটিকে আরও ভাল করে চালাতে পারব। আজ মুখ্যমন্ত্রী আমাদের মৌখিকভাবে আশ্বাস দিয়েছেন। আসলে ছাত্রছাত্রীদের খেলার জায়গার খুব অভাব। তারা খেলতে পারে না। তাই ছাত্রছাত্রীরাও মুখ্যমন্ত্রী কাছে এই মাঠটির জন্য আবদার করেছে। পরে ছাত্রছাত্রীদের গান করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তারা ধনধান্যে পুষ্পে ভরা গানটি শুনিয়েছে। তাতে ভীষণ খুশি হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবং এই স্কুলের উন্নতির জন্য ১০ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন তিনি।

 

পূর্ব বর্ধমানের আলিশায় আদিবাসীদের গ্রামে মুখ্যমন্ত্রী। ছবি: আজকাল

জনপ্রিয়

Back To Top