‌যজ্ঞেশ্বর জানা, দিঘা: কাজে বাধা মানবেন না তিনি। ফের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি উন্নয়নে বাধা না দেওয়ার আবেদন জানালেন। মঙ্গলবার দিঘার কনভেশন সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সরকারকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‌প্রতিযোগিতা হোক কাজ–শান্তি–ভিশন–মিশনের মধ্য দিয়ে। দাঙ্গা–ধ্বংস–হানাহানি নয়। ভোট আসবে, ভোট যাবে। কিন্তু পঁাচ বছর কাজটা তো করতে হবে। যঁারা কেন্দ্রে জিতে এসেছেন, আমি চাই তঁারা তঁাদের মতো করে কাজ করুন, রাজ্যেও যঁারা আছেন, তঁারা তঁাদের মতো কাজ করুন। কিন্তু যঁারা মনে করেন, কোনও কাজ করবেন না, সারক্ষণ মাথায় ফেট্টি বেঁধে, দুটো ডান্ডা আর ঝান্ডা নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়বেন, তঁাদের আমি বলি, আগুন নিয়ে খেলবেন না। মনে রাখবেন আপনিও কেন্দ্রে রয়েছেন, আমিও রাজ্যে রয়েছি। এসব করতে গেলে সকলেরই কিন্তু মুখ পুড়বে।’‌ 
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌বাংলা একদিন পিছিয়ে ছিল। আমাদের খুব লজ্জা লাগত। যখন বাংলার নাম শুনলেই বলত, হবে না। বাংলা মানে শুধুই আন্দোলন। বাংলা, এই কাজটা হবে না। বাংলা, একেবারে ছাগলের তৃতীয় ছানার মতো ছিল। বাংলাকে দূরে সরিয়ে রাখা হত। কোথাও ২৩ নম্বরে, কোথাও ২৪ নম্বরে ছিলাম। মনে রাখবেন, একটা সমস্যা আমরা ফেস করি। সেটা হল গত সরকারের দেনা। সেই দেনা শোধ করতে হচ্ছে আমাকে। ৬৫ হাজার কোটি টাকা প্রতি বছর। এবছরও ৫৬ হাজার কোটি টাকা দেনা শোধ করতে হয়েছে। এত দেনার পরও কাজ করা যায়!‌’‌
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌আমাদের উৎকর্ষ বাংলা, রাষ্ট্রসঙ্ঘের একটা প্রকল্পে প্রথম হয়েছি, সবুজ সাথী প্রকল্পে আমরা ১ কোটি সাইকেল দিয়েছি ছাত্রছাত্রীদের। সেটাতেও আমরা প্রথম হয়েছি। এখানে অনেক কিছুই হয়েছে, বাংলা খুব ভাল করছে। বাংলা সেরার সেরা হোক, এটাই আমরা চাই। তাই প্রতিযোগিতা হোক কাজের মধ্যে দিয়ে। প্রতিযোগিতা দাঙ্গার মধ্যে দিয়ে যেন না হয়।’‌ এদিনের এই কনভেশন সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ছিলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, শুভেন্দু অধিকারী, ইন্দ্রনীল সেন, দুই সাংসদ শিশির অধিকারী, দিব্যেন্দু অধিকারী, মুখ্যসচিব মলয় দে–সহ অন্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তাজপুর বন্দরের কাজের জন্য রাজ্য যে আর কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকবে না তা–ও এদিন স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‌আমাদের আরেকটা বন্দর হবে। আমি চেয়েছিলাম সুন্দরবনে ভোরসাগর বন্দর হোক। আর তাজপুরে বন্দর হোক। আমি তখনকার মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ির শর্তে রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। কথাও হয়ে গেল। কিন্তু বেচারা পারেননি, কী করেননি আমি সে প্রসঙ্গে যাচ্ছি না। আমি মুখ্যসচিবকে অনুরোধ করব, ৫ বছর অপেক্ষা করেছি। আমি আর অপেক্ষা করতে রাজি নই। এটাকে বাতিল করে আমরা রাজ্য সরকার নিজেরা করব।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top