মিল্টন সেন, হুগলি: আলোর শহরে পুজো দেখতে এলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। প্রতি বছরের মতো।
বুধবার বেলা ১টা নাগাদ চন্দননগর কুঠির মাঠে নামে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। সেখান থেকে সোজা কনভয় পৌঁছয় বোড় কালীতলা সৰ্বজনীন জগদ্ধাত্রী পুজোমণ্ডপে। মণ্ডপ ঘুরে দেখার পর, সেখানে মহানবমীর পুজো ও পুষ্পাঞ্জলি দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘দুর্গার আরেক রূপ জগদ্ধাত্রী। যখন দুর্গা অসুর দমন করেন তখন তিনি মহিষাসুরমর্দিনী আর যখন জগৎ ধারণ করেন তখন তিনি জগদ্ধাত্রী।’‌‌ সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, অসীমা পাত্র, সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি, জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও, পুলিশ কমিশনার ড.‌ হুমায়ুন কবির প্রমুখ। বারোয়ারির তরফে জগদ্ধাত্রী স্মারক এবং চন্দননগরের বিখ্যাত জলভরা সন্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে সম্মান জ্ঞাপন করেন রঞ্জন বসু, পার্থ দত্ত, সবুজ গুপ্তরা।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‌চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী কার্নিভাল দেখেই কলকাতায় দুর্গাপুজোর কার্নিভাল শুরু হয়েছে। তবে এখন কলকাতার কার্নিভাল অনেকটাই এগিয়ে গেছে। কারণ, চন্দননগর ছোট জায়গা। তাও যা করা হয় তা অনেকটাই। কলকাতায় বিশাল এলাকা নিয়ে করা হয় তাই বড়। তবে গোটাটাই হয় নিয়মমাফিক সুশৃঙ্খল সুন্দরভাবে।’‌
চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর কার্নিভালকে আরও সুন্দর করে তোলার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌আলো একদিকে থাকবে। একদিকে থাকবে শোভাযাত্রা। আরেক দিকে হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একদিকে থাকবে লরিগুলি। মাঝখানটা ফাঁকা রাখতে হবে। আর দু’‌পাশ থেকে মানুষ তা দেখবে। কলকাতার দুর্গাপুজোর কার্নিভাল দেখলেই চন্দননগরে তা করা যাবে। যা সারা পৃথিবীর মানুষের মন ছুঁয়েছে। আগামিদিনে কলকাতা রেড রোডের ওই কার্নিভাল বিশ্বের এক নম্বর কার্নিভালে উন্নীত করে তোলাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।’‌ এদিন চন্দননগরের আলোর ভূয়সী প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌চন্দননগর আলোর সম্রাট। এখানে আলো হাব তৈরি হয়েছে। এখনকার আলো নকল করে সব জায়গায় আলো তৈরি হচ্ছে।’
বোড় কালীতলা থেকে মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছন বোড় সর্বজনীনের জগদ্ধাত্রী পুজোমণ্ডপে। সেখানে প্রতিমার সামনে ফুল ছড়িয়ে প্রদীপ জ্বালেন। শাড়ি, মিষ্টি, ফুল দিয়ে সাজানো পুজোর ডালি তুলে দেন পুরোহিতের হাতে। মঞ্চে চন্দননগরের বিধায়ক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন খালি গলায় মমতা ব্যানার্জির লেখা ও সুর দেওয়া তিনটি গান পরিবেশন করেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন উৎসবের মেজাজে। মানুষের সঙ্গে মিশে যান তিনি। বলেন, ‘‌এখন আর ১২ মাসে ১৩ পার্বণ নয়। ৩৬৫ দিনে ৩৬৬ উৎসব। অন্তর দিয়ে একের পর এক উৎসব পালন করি আমরা।’‌
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘‌কখনই হতাশাগ্রস্ত হবে না। যা আছে তা নিয়েই ভাল থাকতে হবে। কারও প্ররোচনায় পা দেবে না। কেউ ভুল বোঝাতে এলে কোনও কথা শুনবে না। মনে রাখবে টাকা–পয়সা, সোনাদানা চিরস্থায়ী নয়। শরীর স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হবে।’‌ শরীরই একমাত্র সম্পদ মনে করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌রোজ হাঁটুন, আর ভাল থাকুন আর সুস্থ হয়ে বাঁচুন। চেষ্টা করতে হবে উন্নতি করার। তবে তা না হলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top